বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটি কাটানো বা শুটিংয়ের জন্য অনায়াসে উড়ে গেলেও, একটা বড় সময় পর্যন্ত ভূস্বর্গ কাশ্মীর থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অমিতাভ বচ্চন সঞ্চালিত ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC)-র একটি পুরনো ভিডিও ফের ভাইরাল হতেই কিং খানের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা এক হৃদয়বিদারক কারণ সামনে এসেছে।
বাবার শেষ ইচ্ছে ও অধরা কাশ্মীর সফর
কেবিসি-র মঞ্চে অমিতাভ বচ্চনের সামনে জীবনের এই কষ্টের কথা বলতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন শাহরুখ।
-
পারিবারিক টান: শাহরুখের ঠাকুমা ছিলেন কাশ্মীরি। ফলে ভূস্বর্গের প্রতি তাঁদের পরিবারের একটি আত্মিক টান ছিল।
-
বাবার পরামর্শ: শাহরুখ যখন কিশোর, তাঁর বাবা তাঁকে বিশ্ব ঘুরে দেখতে বললেও একটি বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ইস্তাম্বুল, ইতালি বা রোম—জগৎ সংসার একা ঘুরে এসো, কিন্তু কাশ্মীর কখনও একা যেও না। কারণ আমি তোমাকে নিজে সাথে নিয়ে কাশ্মীর ঘুরিয়ে দেখাব।”
-
পিতৃশোকে থমকে যাওয়া সফর: কিন্তু খুব কম বয়সেই পিতৃহারা হন শাহরুখ। বাবার অকালপ্রয়াণে তাঁর সাথে কাশ্মীর ভ্রমণের ইচ্ছেটি অধরাই থেকে যায়। ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শাহরুখ সিদ্ধান্ত নেন, বাবা যেহেতু সাথে নেই, তাই তিনি কখনও কাশ্মীরে পা রাখবেন না।
পেশাদার জীবনের খাতিরে সিদ্ধান্ত বদল
পরবর্তীকালে বহুবার কাশ্মীরে যাওয়ার ব্যক্তিগত বা পেশাগত সুযোগ এলেও শাহরুখ বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে শেষ পর্যন্ত নিজের এই ব্যক্তিগত নীতিতে ছাড় দিতে বাধ্য হন তিনি।
| ছবির নাম | পরিচালক | কাশ্মীরে অভিজ্ঞতা |
| জব তক হ্যায় জান (২০১২) | যশ চোপড়া | এই ছবির শুটিংয়ের জন্য প্রথমবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাশ্মীরে যান শাহরুখ। শুটিংয়ের ফাঁকে ভূস্বর্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রয়াত বাবার উপস্থিতি ও ছোঁয়া তীব্রভাবে অনুভব করার কথা জানান অভিনেতা। |
অমিতাভ বচ্চনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আত্মিক টান থেকেই নিজের জীবনের এই গভীর গোপন কষ্টের স্মৃতি সকলের সাথে ভাগ করে নিয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ। উল্লেখ্য, ভক্তরা এখন শাহরুখের পরবর্তী বহুপ্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’ (King)-এর মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।



By












