দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: যত এগিয়ে আসছে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ, ততই রাজ্যজুড়ে পরিস্থিতি চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠছে। এমনিতেই একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, তার উপর পরিস্থিতি আরো স্পর্শকাতর হলো ফর্ম–৬ ইস্যুতে। সাংবাদিক বৈঠক করে এবার সেই ব্যাপারে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি দাবি করেন যে অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম বাংলা ভোটার তালিকায় যোগ করার চেষ্টা চলছে নির্বাচন কমিশনের দফতরে ব্যাগ ভর্তি ফর্ম–৬ জমা দিয়ে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিসিটিভি ফুটেজও দেখান।
মঙ্গলবার নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর চত্বর, ফর্ম–৬ ইস্যুকে ঘিরে, রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সেই এলাকা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছাড়ার পর চরম বিক্ষোভ দেখানো হয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও শাসকদলপন্থী বিএলওদের তরফ থেকে। এই বিক্ষোভকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।
বিক্ষোভকারী তৃণমূল সমর্থকদের অভিযোগ, বাংলার ভোটার তালিকায় অন্য রাজ্যের ভোটারদের যুক্ত করা হচ্ছে ফর্ম–৬ জমা দেওয়ার দ্বারা। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা চলছে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম। তাঁদের অভিযোগ, এক ব্যক্তি অজস্র ফর্ম–৬ জমা দিতে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছাড়ার পর এবং তাঁকেই ধরে ফেলেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। সেই ব্যক্তি নাকি স্বীকার করেছেন প্রায় ৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার কথা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই চত্বরে শীঘ্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। শাসকদলের সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরাও।
এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা দফতর থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণ পর পূর্ব মেদিনীপুরের এক ব্যক্তি ব্যাগে করে প্রায় প্রায় ৪০০র বেশি ফর্ম–৬ নিয়ে সেখানে ঢোকেন। সেই সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন যে অভিযোগের পরও কমিশনের দফতরে ভর্তি ভর্তি ফর্ম–৬ ঢুকছে এবং এর সঙ্গে জড়িত গেরুয়া শিবির। সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “ছিনিমিনি খেলা চলছে মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে। বিজেপি চেষ্টা করছে বিহার, মহারাষ্ট্র, দিল্লি বা হরিয়ানার মডেল করার বাংলায়। এমন ষড়যন্ত্রে পরাজয়ের ভয়েই তারা লিপ্ত হয়েছে।”



By










