দেবজিৎ মুখার্জি: ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে ব্যাপক তোলপাড় চলছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে ইসরাইল ও আমেরিকার তরফ থেকে এবং যেভাবে তার জবাব দিয়ে চলেছে ইরান, তা দেখে চিন্তিত গোটা বিশ্ব। রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোটা মিডিল ইস্ট। প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এই যুদ্ধ দ্রুত থামানোর। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, উগ্র থেকে উগ্রতর হয়ে উঠছে পরিস্থিতি, যা আরো চাপ বাড়াচ্ছে একাধিক দেশের।
এই আবহে দেশের সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে একটা চিন্তা তৈরি হয়েছে তেলের দাম বাড়া নিয়ে। এখানেই শেষ নয়, পেট্রোপণ্যের দামও বাড়তে পারে, এই ব্যাপারেও চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। তবে এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বাস দিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যদিও সরকারিভাবে পেট্রোপণ্যের দাম নিয়ে এই পর্যন্ত কিছু ঘোষণা করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, তেল ও জ্বালানি নিয়ে যাতে কোনরকম সমস্যা না হয়, তার জন্য একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই তারা এই ব্যাপারে সফল হয়েছে এবং আপাতত কোনও চিন্তার কারণ নেই তেল আমদানি নিয়ে।
প্রসঙ্গত, আপাতত ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার ছাড় পেয়েছে ভারত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে পুতিনদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে। তার আগেই রপ্তানির লক্ষ্যে একাধিক রুশ তেলবাহী জাহাজ বেরিয়ে পড়েছিল। তবে এখন সেগুলির কোনও ক্রেতা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই মুহূর্তে সেই জাহাজগুলি থেকেই তেল কিনতে পারবে ভারত।
বৃহস্পতিবার মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট এই ব্যাপারে যাবতীয় সব জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “ভারত আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বে ইরান চাইছে শক্তিসম্পদ চলাচল রীতিমত বন্ধ করে দিতে। ৩০ দিনের এই অস্থায়ী ব্যবস্থা লঘু করে দেবে তাদের চাপকে। কোনরকম সমস্যা থাকবে না পেট্রোপণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে।” তবে এর সঙ্গে তিনি এটাও দাবি করেন যে আপাতত রাশিয়া থেকে তেল কেনার ছাড়পত্র পেলেও আরো বৃদ্ধি পাবে ভারতের মার্কিন তেল কেনা। এই যে আলাদা করে কোনও ফায়দা হবে না রাশিয়ার।



By














