নিউজ ডেস্ক: সাময়িক স্বস্তি ভারতের! কয়েকদিনের জন্য অনুমতি দেওয়া হলো ট্রাম্প সরকারের তরফ থেকে। তারা আপাতত ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে পুতিনদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে। তার আগেই রপ্তানির লক্ষ্যে একাধিক রুশ তেলবাহী জাহাজ বেরিয়ে পড়েছিল। তবে এখন সেগুলির কোনও ক্রেতা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই মুহূর্তে সেই জাহাজগুলি থেকেই তেল কিনতে পারবে ভারত।
বৃহস্পতিবার মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট এই ব্যাপারে যাবতীয় সব জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “ভারত আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বে ইরান চাইছে শক্তিসম্পদ চলাচল রীতিমত বন্ধ করে দিতে। ৩০ দিনের এই অস্থায়ী ব্যবস্থা লঘু করে দেবে তাদের চাপকে। কোনরকম সমস্যা থাকবে না পেট্রোপণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে।” তবে এর সঙ্গে তিনি এটাও দাবি করেন যে আপাতত রাশিয়া থেকে তেল কেনার ছাড়পত্র পেলেও আরো বৃদ্ধি পাবে ভারতের মার্কিন তেল কেনা। এই যে আলাদা করে কোনও ফায়দা হবে না রাশিয়ার।
প্রসঙ্গত, ইরান থেকে খুব একটা বেশি তেল ভারত না কিনলেও তাদের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি তেল কিনতে হয় অন্য কোথা থেকে, যার প্রায় অর্ধেক আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। দিনে প্রায় ২৫-২৭ লক্ষ্য ব্যারেল তেল আসে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েত, ইত্যাদি দেশগুলি থেকে। পাশাপাশি, সিএনজি নিডের প্রায় ৬০ শতাংশও এখান দিয়ে আসে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের তরফ থেকে তা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে এখানে জাহাজ দেখলেই, তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু তেমনটা হলে যে মারাত্মক সমস্যায় পড়বে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি সাহায্য নেয় রাশিয়ার। জানা যায় যে প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেলবাহী জাহাজ রয়েছে ভারতের জলসীমার আশেপাশে। কিন্তু সমস্যা ছিল যে তা কিনলে মার্কিন শুল্কের চাপে পড়তে হবে ভারতকে। তবে আপাতত ৩০ দিন সেই চাপ নেই। আপাতত সেখান থেকে তেল কিনতে পারবে ভারত। তবে প্রশ্ন থাকছে যে আমেরিকার ইশারায় কি ফের ভারতের তরফ থেকে আমদানি কমবে রাশিয়ার তেলের? কি হয় আগামীদিনে, সেটাই এখন দেখার।



By













