• Home
  • দেশ
  • অবশেষে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোক দেখালো কেন্দ্র

অবশেষে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোক দেখালো কেন্দ্র

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তোলপাড় চলছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে। গোটা বিশ্ব চিন্তায় পড়েছে এই ভয়ঙ্কর সংঘাতের কারণে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতবর্ষে বিরোধীদের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল যে কেন কেন্দ্র সদ্য প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে নিশ্চুপ? তবে এবার এই ব্যাপারে মিলল প্রতিক্রিয়া। পদক্ষেপ করা হলো মোদি সরকারের তরফ থেকে।

দীর্ঘ চাপা উত্তেজনার পর গত শনিবার ইরানে যৌথভাবে হামলা চালানো হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ইসরাইলের তরফ থেকে। এই হামলায় না ফেরার দেশে চলে যান ইরানের প্রাক্তন প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। এই বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়ে যায় সেই দেশ সহ গোটা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। বলা ভালো, এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ইরানের তরফ থেকেও পাল্টা দেওয়া হচ্ছে, যা ঘিরে যুদ্ধের ময়দানের চেহারা নিয়েছে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য।

তবে মোদি সরকার প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকায় বিরোধীদের, মূলত কংগ্রেসের, তরফ থেকে প্রশ্ন ওঠে যে কেন কেন্দ্র এই ব্যাপারে নিজের বক্তব্য পেশ করেনি। সোনিয়া গান্ধী থেকে শুরু করে তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী, সকলেই প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রের নিরবতা নিয়ে। এখানেই শেষ নয়, প্রশ্ন তুলেছিলেন পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতিও। 

অবশেষে এবার এই ব্যাপারে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। কী পদক্ষেপ করা হলো তাদের তরফ থেকে? বৃহস্পতিবার বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি করলেন ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। এখানেই শেষ নয়, তিনি দিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে যান এবং শোকপুস্তিকায় সই পর্যন্ত করেন। সেক্ষেত্রে মোদি সরকার এই ব্যাপারে আগে কি করেন, সেদিকে যে দেশবাসীর নজর থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। 

প্রসঙ্গত, শীর্ষ নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলির ধ্বংস করার লক্ষ্যে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় ইসরাইল ও আমেরিকা। ইসরাইলের তরফ থেকে এটিকে নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন রোরিং লায়ন এবং আমেরিকা নাম দিয়েছে অপারেশন এপিক ফিউরি। এই হামলার জেরে প্রাণ হারান দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ আরো অনেকে। 

তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে ইরানের তরফ থেকেও। তারাও ইসরাইল ও মিডিল ইস্টে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে। এখনো হামলা চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকেও শত্রুতা পরিণত করে ফেলছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তরফ থেকে এই ব্যাপারে অবস্থান জানানো হয়েছে। তবে এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে আর কি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top