দেবজিৎ মুখার্জি: মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তা একাধিকভাবে চিন্তা বাড়িয়েছে ভারতের। প্রথম থেকেই স্পষ্ট ছিল যে এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বে। দেশের মুদ্রায় হয়েছে বড়সড় পতন। শুধু তাই নয়, দালাল স্ট্রিটেও এই যুদ্ধের বিশ্রী প্রভাব পড়েছে। সবমিলিয়ে, এক চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে পড়েছে গোটা ভারত। বলা যায়, মাথায় হাত পড়েছে সকলের।
দীর্ঘ চাপা উত্তেজনার পর গত শনিবার ইরানে যৌথভাবে হামলা চালানো হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ইসরাইলের তরফ থেকে। এই হামলায় না ফেরার দেশে চলে যান ইরানের প্রাক্তন প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। এই বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়ে যায় সেই দেশ সহ গোটা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। বলা ভালো, এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ইরানের তরফ থেকেও পাল্টা দেওয়া হচ্ছে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে।
এই যুদ্ধের চরম প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও। রেকর্ড প্রথম দেখা গিয়েছে দেশের মুদ্রায়। ৭০ পয়সা বেড়েছে ডলারের দাম এবং তা দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ১৭ পয়সায়, সোমবার যা ছিল ৯১ টাকা ৪৯ পয়সা। এর আগে টাকার দাম এতটা নিচে নামতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, দালাল স্ট্রিটে সরাসরি পনেরশো পয়েন্ট হারিয়েছে সেনসেক্স এবং চলে গিয়েছে ৮০ হাজারের নিচে। এখানেই শেষ নয়, নিফটির পয়েন্টেও কমতে দেখা গিয়েছে। তা পড়েছে ৪০০ পয়েন্টেরও বেশি। স্বাভাবিকভাবেই ইনভেস্টারদের মাথায় হাত পড়েছে এর ফলে। তাদের চিন্তা যে বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।
এহেন পরিস্থিতিতে দেখার যে আগামীদিনে কি হয়। ভারতের বাজারে, মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ, আর কি প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন, যা ঘোরাফেরা করছে গোটা দেশে। তবে এই যুদ্ধের জেরে যে চাপ দিনদিন বাড়বে, ওতা না বললেও বোঝা যায়। এক্ষেত্রে দেখার যে দেশের সরকার এই সংকটজনক মুহূর্ত কিভাবে সামাল দেয়। কি পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র, সেটাই এখন নজরে রাখার মতো বিষয়।



By










