দেবজিৎ মুখার্জি: শুক্রবার জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মুক্তি পাওয়া। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একা নন, রেহাই পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াও। রেহাই পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন আপ সুপ্রিমো। তাঁর বক্তব্য, তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন যদি গেরুয়া শিবির ১০টির বেশি আসন পায়।
শুক্রবার আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পান দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তথা আম আদমি পার্টি (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে তিনি একা নন, মুক্তি পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াও। রাউস এভিনিউ কোর্টের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে এতে কোন ক্রিমিনাল ইন্টেনশন বা ষড়যন্ত্র ছিল না। সিবিআই তা প্রমাণ করতে পারেনি।
এরপরই সাংবাদিক বৈঠক করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিজেপিকে। তিনি বলেন, “ধ্বংস হয়ে গিয়েছে গোটা দিল্লি। সবচেয়ে বড় পরিণতি ভোগ করছেন রাজ্যের ৩ কোটি মানুষ নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের ক্ষমতার লোভের। জিজ্ঞেস করে দেখুন দিল্লির মানুষকে। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ করছি, যদি আপনার সাহস থাকে, তাহলে ফের নির্বাচন করুন দিল্লিতে। আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো যদি দশটার বেশি আসন পায় বিজেপি। আপনাদের উপর বিরক্ত দিল্লির মানুষ।”
প্রসঙ্গত, গতবছর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কেজরিওয়ালদের বিরুদ্ধে আবগারি দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, আম আদমি পার্টি রাজ্যে যে আবগারি নীতি চালু করেছিল, তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল রাজ্যের কোষাগারে। সরকারের অন্তত ২০২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে মূল অভিযুক্ত বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আপ সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ তোলা হয় এবং মোট ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এর জেরে জেলে যেতে হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। পাশাপাশি কারাগারে যেতে হয়েছিল মণীশ সিসোদিয়া সহ আরো অনেককে। কিন্তু ইডি বা সিবিআই, দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাই দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি এবং এর জেরে একেক করে সকলেই জেলমুক্ত হন। শুক্রবার রাউস এভিনিউ কোর্ট পুরোপুরি কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে রেহাই দেয় মামলা থেকে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই কারোর বিরুদ্ধেই যথাযথ প্রমাণ দিতে পারেনি। মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ না জোগাড় করতে পারার পাশাপাশি শুধু ধারণার উপর নির্ভর করে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছিল বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং বলেন, “রাজসাক্ষীর বয়ানের উপর নির্ভর করে মামলার অধিকাংশই সাজানো হয়েছে, যা করা যায় না। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত কুলদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে।” শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেজরিওয়ালকে ক্লিনচিট দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট গিয়েছে সিবিআই এবং অ্যাপিল ফাইল করেছে। এবার দেখার আগে কি হয়।



By












