• Home
  • জেলার খবর
  • “ক্ষমা করে দিতে বলবো সেলিমবাবুকে” তৃণমূলে যোগ দিয়ে মোহভঙ্গ প্রতীকের?

“ক্ষমা করে দিতে বলবো সেলিমবাবুকে” তৃণমূলে যোগ দিয়ে মোহভঙ্গ প্রতীকের?

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “সেলিমবাবুর হাত দুটো ধরে বলব ক্ষমা করে দিতে” এক সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানালেন সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমান। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি জানান যে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমকে তিনি বলবেন যে তাঁর শেষ কথা দুটো তাঁকে দল ছাড়তে বাধ্য করেছে। যদিও এর সঙ্গে তাঁর একসময়ের বাম সহযোদ্ধাদের কাছেও তিনি ক্ষমা চান। প্রতীক জানিয়েছেন যে তাঁদের পক্ষে হয়তো ক্ষমা করা সম্ভব নয়, তাও বলবেন ক্ষমা করে দিতে। 

গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে প্রতীক উর রহমানের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই তীব্র কটাক্ষ করা হয় সিপিএমের তরফ থেকে। দলের অনেকেই চরম ক্ষুব্ধ হন। অনেকেই তাঁকে সুবিধাবাদী তকমা দেওয়ার পাশাপাশি দাবি করেছেন যে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। যদিও প্রতীক উর রহমান বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছেন দলের কিছু নেতা। তাঁর নিশানা যে মহাম্মদ সেলিমের দিকে, তা না বললেও বোঝা যায়। সেলিমকে তিনি ‘গব্বর’ পর্যন্ত  বলেছেন।

এবার এক সংবাদমাধ্যমকে প্রতীক সাক্ষাৎকার দেন এবং জানান যে তিনি ক্ষমা চাইবেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের থেকে। শুধু তাই নয়, তিনি ক্ষমা চান তাঁর একসময়ের সহযোদ্ধাদের থেকেও। যখন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া তরুণ নেতাকে প্রশ্ন করা হয় মহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হলে কি করবেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “প্রথমে ওনাকে জিজ্ঞেস করবো উনি কেমন আছেন এবং এরপর ওনার হাত দুটো ধরে বলব যে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনার শেষ কথাগুলো আমাকে বাধ্য করেছে দল ছাড়তে।”

প্রতীক জানেন যে তাঁর এই কাজে মানসিক আঘাত পেয়েছেন তাঁর একসময়ের সহযোদ্ধারা। সেই ব্যাপারে তিনি তাঁদের কাছে ক্ষমাও চাইলেন। তাঁর বক্তব্য, “জানি হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু তবুও ক্ষমা করে দিতে বলব।” এতে আবার অনেকে মনে করছেন যে তৃণমূলে গিয়ে প্রতীক বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর জন্য এই দল নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০ বছর বামেদের তো দিয়েছি। তাও প্রশ্ন করতে পারিনি। তৃণমূল কংগ্রেসকে আগামী ২০-৩০ বছর দেব। দেখা যাক প্রশ্ন করতে পারি কিনা। আমি আগেও সবটা দিয়ে দল করেছি এবং এখনো করব। কাজ করবো মানুষের জন্য। দেখব যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায় মানুষ।” অনেকে আবার এমনটাও দাবি করছেন যে টাকার বিনিময়ে তাঁকে ঘাসফুল শিবির কিনেছে। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “রিচার্জ করার টাকা নেই বলে আমার মূল নম্বরে ইনকামিং বন্ধ। পেলে রিচার্জ অন্তত করতাম।” পাশাপাশি হোলটাইমারের সেই সামান্য টাকা কতটা সম্মানজনক ছিল তাঁর কাছে, সেটাও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সিপিএমের কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমান এবং এরপর লাগাতার আক্রমণ করেন সিপিএমকে। তাঁর সঙ্গে দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিল। বিমান বসুর তরফ থেকে চেষ্টা করা হয় তাঁর মান ভাঙার। কিন্তু তিনি তাতে সফল হননি। সেলিমের তরফ থেকেও এই বিষয়ে মতামত জানিয়ে দেওয়া হয়। 

তবে এই সবকিছুর মাঝে শোনা যাচ্ছিল যে তিনি হয়তো শীঘ্রই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে সেটাই হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক। তাঁর যোগদান করার সময়ে আলিমুদ্দিন থেকে তাঁকে বহিষ্কারের চিঠি আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top