দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বাংলায় এসআইআর মামলায় শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে মঙ্গলবার যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এক্স হ্যান্ডেল থেকে কমিশনকে একহাত নিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কী বক্তব্য তাদের? ঘাসফুল শিবিরের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে এসআইআর কাজে ব্যর্থ এবং অযোগ্য নির্বাচন কমিশন এবং সেই কারণেই বাইরের রাজ্য থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের ২৮ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। অর্থাৎ হাতে আর মাত্র তিনটি দিন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বহু নথি পরীক্ষার কাজ রয়েছে বাকি। শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। পাশাপাশি, সংখ্যাও কম অফিসারদের কমিশনকে সাহায্য করার মতো। এই ব্যাপারে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে একাধিকবার বৈঠক করা হয়।
এই অবস্থায় মঙ্গলবার রাজ্যের এসআইআর মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে ওঠে শুনানির জন্য শীর্ষ আদালতে। শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিচারপতিদের তরফ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় ঝাড়খন্ড, ওড়িশার জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করার সেখানকার হাই কোর্টের সঙ্গে কথাবার্তা বলে। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এতে আপত্তি জানান এবং ভাষা বোঝা নিয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কিন্তু তা খারিজ করে দেওয়া হয়। বিচারপতি সূর্য কান্তের তরফ থেকে জানানো হয় যে একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সহ পুরো অঞ্চলে চলত বাঙালি সংস্কৃতি। তাই সেখানকার মানুষ বাংলা জানে এবং কাজে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
শীর্ষ আদালত এই নির্দেশ দেওয়ার পরই ঘাসফুল শিবির এক্স হ্যান্ডেলে এই ব্যাপারে পোস্ট করে নির্বাচন কমিশনকে একহাত নয়। দলের বক্তব্য, শীর্ষ আদালত যেই নির্দেশ দিয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে কমিশনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই বাংলায় ঠিকভাবে এসআইআর কাজ করা, যেমনটা দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। অন্য রাজ্য থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার নির্দেশের পাশাপাশি আগের নির্দেশ এক রেখে নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও আধার কার্ড নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয় পোস্টে। তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, যেই ভোটারদের নথি মিলছে না বলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে, তাঁদের এই ব্যাপারে সমস্যা মিটে যাবে এই দুই নথি নিয়ে নিলেই। এছাড়া এই অভিযোগও তোলা হয় যে বিজেপি-কমিশন মিলে এসআইআরের পরিবর্তে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের লক্ষ্য।
যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলকে পাল্টা দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকে বাধা দিয়েছে অন্য রাজ্য থেকে বিচারপতি গোটা প্রসেসটাকে। সকলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সব জায়গায়। বিক্ষোভ চলছে সিএমওতে নিয়োগের জন্য। কমিশনের ব্যাপার সেটা। এখানকার যাঁরা বিচারপতি, তাঁরা ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়। অন্য রাজ্য থেকে আসতে হবে প্রক্রিয়া শেষ করতে।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By









