• Home
  • জেলার খবর
  • পুরনো ছবি হাতিয়ার করে প্রতীককে কটাক্ষ দলের একাংশের, দেওয়া হল পাল্টাও

পুরনো ছবি হাতিয়ার করে প্রতীককে কটাক্ষ দলের একাংশের, দেওয়া হল পাল্টাও

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বর্তমানে তরুণ বাম নেতা প্রতিক উর রহমান ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের মধ্যে অশান্তি যে একেবারে অন্য মাত্রা নিয়েছে, তা না বললেও বোঝা যায়। এই আবহে দলের একাংশের তরফ থেকে একটি ছবি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে বদনাম করার চেষ্টা করা হয় প্রতিক উরকে। তবে তিনিও পাল্টা দিতে দেরি করেননি। তিনিও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন এই ব্যাপারে এবং দাবি করেছেন যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ছড়ানো হয়েছে।

বঙ্গ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম বড় আলোচনার চরিত্র প্রতীক উর রহমান। গত সোমবার তিনি সিপিএমকে রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা চিঠি মারফত জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে পড়ে যায় হইচই। তার উপর বিষয়টি অন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায় যখন শোনা যায় যে তিনি নাকি ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ধরবেন। যদিও তিনি সরাসরি জানাননি যে আদৌ শাসক শিবিরে যোগ দেবেন কিনা। তবে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে অনেক দলই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

প্রতীক উরের মান ভাঙ্গানোর জন্য বিমান বসুর তরফ থেকে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কেন তা ফিরিয়ে দিয়েছেন, সেটাও জানান প্রতীক। পাশাপাশি, দলের ভিতরকার খবর বাইরে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভও উগরেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দলে কিভাবে যুবনেতারা নিপীড়িত হচ্ছেন, সেই ব্যাপারেও আওয়াজ তোলেন। এক কথায়, দলের কাজকর্ম নিয়ে তিনি কতটা অসন্তুষ্ট, তা প্রতীক জনসম্মুখে এনেছেন। দলের রাজ্য সম্পাদক মহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর লড়াই একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয় যেখানে দেখা যায় যে প্রতীক উর বইয়ের স্টলের উদ্বোধন করছেন ফিতে কেটে। তাঁর বাঁদিকে দাঁড়িয়ে কলতান দাশগুপ্ত এবং প্রতীকের পেছনে সেলিম। ছবিকে হাতিয়ার করে দলের একাংশ বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তরুণ বাম নেতাকে ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়া হলেও তিনি তার গুরুত্ব দেননি। যদিও পাল্টা এসেছে প্রতীকের তরফ থেকেও। তাঁর বক্তব্য, “ছবিটি বছর দুয়েক আগের, যা সম্ভবত শিয়ালদহ বা কলেজ স্ট্রিটের কোন বইয়ের স্টল উদ্বোধনের। কর্মসূচিটি ছিল এসএফআইয়ের এবং আমি তখন এসএফআইয়ের সভাপতি ছিলাম। মহাম্মদ সেলিমের সেই কর্মসূচিতে আসার কথা ছিল না, তবে তিনি খবর পেয়ে চলে আসেন। কিন্তু ফিতে কাটার কথা ছিল আমারই।”

প্রতীককে সমর্থন জানিয়েছেন দলের আরেকাংশ। তাঁদের বক্তব্য, যাঁরা এই ছবি ভাইরাল করেছেন, তাঁরা সেলিমপন্থী। তরুণ বাম নেতার এক ঘনিষ্ঠের বক্তব্য, “মহাম্মদ সেলিম হঠাৎ ওই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ছবিটি সেদিন তোলা হয়েছিল। খুব ছবি তুলতে ভালোবাসেন সেলিম। উনি দৃশ্যটিকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে চেয়েছিলেন যুবনেতাদের সামনে এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে। কিন্তু সেটা সত্য নয়।” এই ছবি ব্যবহার করে প্রতীক এটাও জানিয়েছেন যে, “ছবিটি ভালো করে দেখুন। এখানে আমি আর কলতান আছি। কিন্তু কলতান এখন কোথায়? ও কি যোগ্য নয়? কিন্তু জায়গা দেওয়া হয়নি ওকে। ঠিক এভাবেই আমাকেও কোণঠাসা করা হয়েছে দিনের পর দিন। ছবিটি এখন ইচ্ছাকৃত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করা যায়।” যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সেলিমের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে এই জল আরও কতদূর পর্যন্ত গড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top