দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা দিনদিন বাড়ছে। বিশেষ করে রাজ্যে এসআইআর হওয়ার পর থেকেই রাজ্যবাসীর মধ্যে ভোটের ফলাফল নিয়ে আগ্রহ এখন থেকেই অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। বলা ভালো, এই মুহূর্তে ভোটের হাওয়া বইছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে। বাংলা ধীরে ধীরে নিচ্ছে রণক্ষেত্রের চেহারা।
এই আবহাওয়ায় ফের গেরুয়া শিবিরের ধরলো ভাঙ্গন। দলের আরো এক নেতা যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ধরলেন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি তৃণমূল ভবনে এসে শাসকদলের পতাকা ধরেন। এদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু। শাসক শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই একের পর এক ইস্যু তুলে তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করেন।
বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বলেন, “অনাদর করলাম না জনগণের ভোটকে। খারাপ পাবেন না জনগণ। বিশ্বাস রেখেছিলেন আমার উপর। আজ আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলাম। গত পাঁচ বছরে আমি অনেক কিছু দেখেছি এবং শিখেছি। টাকা পাঠাতো না কেন্দ্র উন্নয়নের জন্য। সেই দলে আমি ছিলাম।” তিনি এটাও দাবি করেন যে গেরুয়া শিবিরকে বিশ্বাস করে উন্নয়ন করতে পারছিলেন না দার্জিলিংয়ের। বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, “আমি চিন্তা করলাম। দিদি আমার চিন্তার সলিউশন। এখানে আশ্রয় নিলাম আমি। আমি বহুবার পোস্ট করেছি এসআইআরের বিরোধিতা করে।”
প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১) পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস একেবারেই প্রভাব ফেলতে পারেনি। সবকটি আসনে পরাজিত হয়েছিল তারা। তবে গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে পাল্টাতে শুরু করে চিত্র। বহুদিন ধরেই বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা আলাদা উত্তরবঙ্গ বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি তুলছিলেন। তা ঘিরে মাঝেমধ্যেই মতপার্থক্য তৈরি হতো তাঁর ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
তবে এবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেছেন। তাই রাজনৈতিক মহল মনে করছেন যে এবার হয়তো পাহাড়ে ঘাঁটি তৈরি করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার দেখার বিষয় যে যেটা ভাবা হচ্ছে তা হয় কিনা। পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করতে পারে কিনা, এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজ্য রাজনীতিতে। এবার দেখার বিষয় আগে কি হয়।



By










