দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: দিন যত এগিয়ে আসছে, ততো বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে রাজ্যে। বলা ভালো, এই মুহূর্তে গোটা বাংলার নজর রয়েছে দিনক্ষণ ঘোষণার উপর। বিশেষ করে এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের পরিস্থিতি আরো স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভোটে কি হবে বা না হবে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে একাধিক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
এরই মাঝে আগামী বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়ে দাঁড়ানোর দাবি তুলে বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরে জীবনপঞ্জি জমা দিলেন দিলীপ জায়া রিঙ্কু মজুমদার। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে গত মাসের, অর্থাৎ জানুয়ারির, শেষ দিনের সন্ধ্যেবেলায় তিনি একজনের হাতে তা তুলে দেন সল্টলেকের দপ্তরে। জানা যাচ্ছে, তিনি তাতে তিনটি আসনে – মেদিনীপুর শহর, বীজপুর এবং নিউটাউন – লড়াই করার ইচ্ছা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি, জীবনপঞ্জিতে তিনি জানিয়েছেন দলের হয়ে কি কি কাজ করছেন ও করেছেন।
এই ব্যাপারে রিঙ্কু মজুমদার বলেছেন, “কয়েক মাস হয়েছে আমি মিসেস ঘোষ হয়েছি। কিন্তু নিউটাউনে থাকি ২০১৩ সাল থেকে। কাজ করেছি দলের। বিয়ে, ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তবে মানুষের জন্য কাজ করব, সেটা আমার পরিকল্পনাতেই ছিল। সংগঠনের তরফ থেকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালন করেছি। আর অনেকেই সিভি জমা করছেন। একটা রাজনৈতিক সত্বাও তো আছে আমার। লড়াই করতে চাই আমি। অবশ্যই জিততে চাইব।” সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে দিলীপ ঘোষ নিজেও রিঙ্কু মজুমদারের জীবনপঞ্জি জমা দিতে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানেন।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে (২০২১) বড় ব্যবধানে জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসে বাংলায়। বিপুল ভোটে জিতে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পর ঘাসফুল শিবির ও তাদের জোটসঙ্গীর ঝুলিতে ছিল মোট ২১৬টি আসন। অন্যদিকে, বিজেপি পায় ৭৭টি।
বাম-কংগ্রেস খাতা খুলতে না পারলেও, আইএসএফ জয় পায় একটি আসন, তথা ভাঙ্গরে। সেখানকার বিধায়ক হন নওশাদ সিদ্দিকী। তবে এই মুহূর্তে শাসকদল ও তাদের জোটসঙ্গীদের মোট আসনসংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২২৫এ, বিজেপির ৬৫ এবং বাকিদের দখলে ৪টি। এবার দেখার যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পর চিত্রতে কোন পরিবর্তন দেখা যায় কিনা। নাকি অব্যাহত থাকবে সবুজ ঝড়? তা জানা যাবে কদিন পর।



By











