দেবজিৎ মুখার্জি: আবারো ঘটল একই ঘটনা! এই নিয়ে তিনবার এমনটা হল। শীর্ষ আদালতে ফের পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি। এদিন বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং সঞ্জীব মেহতার এজলাসে রাজ্যের অভিযোগ, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসজি রাজু দাবি করেন যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর রিজয়েন্ডার দাখিল করার জন্য সময় চেয়ে নেওয়া হয় ইডি ও সলিসিটর জেনারেলের তরফ থেকে। পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ মার্চ।
বুধবার ইডির দায়ের করা নথি চুরি মামলার শুনানিতে ইডি হলফনামা জমা দিয়ে দাবি করে যে জোর করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিতরে ঢুকে নথি কেড়ে নিয়েছে। তাতে এটাও দাবি করা হয় যে সংস্থার মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। যদিও তৃণমূল সুপ্রিমো যে এমনটা করেননি, তা আগেই হলফনামায় জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য এবং মামলা খারিজ করার আবেদনও করেছে। রাজ্য নিজেদের হলফনামায় জানিয়েছে যে ইডির কোন অধিকার নেই মামলা দায়ের করার এবং যেভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তা ভুল।
এদিন মামলার শুনানি এই পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয়। শুরুতেই রাজ্য অভিযোগ করে যে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগকে কেন্দ্র অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসজি রাজু পাল্টা অভিযোগ করেন যে আধিকারিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর ইডি ও সলিসিটর জেনারেল রিজয়েন্ডার দাখিল করার জন্য সময় চেয়ে নেওয়া হয়। সেই দাবি মেনে নিয়ে মার্চ মাসের ১৮ তারিখ পরবর্তী শুনানের দিন হিসেবে ঠিক করা হয়। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ, তথা বিশিষ্ট আইনজীবী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “কেন্দ্র সময় চেয়েছে রিজয়েন্ডার দাখিল করার জন্য। ১৮ তারিখ শুরুতে আদালত শুনবে এই মামলা কতটা যুক্তিসঙ্গত।”
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে আইপ্যাক ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। খবর জানাজানি হতেই দুই জায়গাতেই ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেশ কিছু ফাইল ও নথি নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডির তরফ থেকে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয় তদন্তে বাঁধা দেওয়া ও নথি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমোর আইনজীবী। মামলা এই মুহূর্তে বিচারাধীন। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে কি হয় বা কি নতুন তথ্য উঠে আসে।



By










