দেবজিৎ মুখার্জি, পুরুলিয়া: এমনিতেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও হত্যা ইস্যুতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তার মাঝে ফের ডবল ইঞ্জিন সরকার শাসিত রাজ্যে হত্যা করা হলো বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে। এবারের ঘটনাস্থল মহারাষ্ট্র। বাংলায় কথা বলার জন্য সেই পরিযায়ী শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের।
জানা গিয়েছে, মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম সুখেন মাহাতো। তিনি পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার তুমড়াশোলের বাঁধডির বাসিন্দা। ২০২১ সাল থেকে থেকে তিনি পুনেতে চাকরি করতেন। কোরেগাঁও ভিমার পাশে সনৎবাড়ি এলাকায় এক গাড়ির পার্টস তৈরি করার কোম্পানিতে তিনি কাজ করতেন। সেখান থেকেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর দাদা তুলসীরাম মাহাতোর অভিযোগ, তাঁর ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন তিনি শিকারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশের তরফ থেকেও তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই হত্যার খবর পেয়েই সুখেন মাহাতোর বাড়িতে ছুটে যান পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার জন্য হত্যা করা হয়েছে সুখেনকে। ঘাসফুল শিবিরের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে সুখেন মাহাতো তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জন করা সদস্য ছিলেন এবং তাঁর পরিবারকে সবরকম সাহায্যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে উঠে আসছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও হত্যার খবর। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অত্যাচার চালানো হচ্ছে তাঁদের উপর। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এর চরম নিন্দা করছে। আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার পাশাপাশি রাজপথে নেমেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঘাসফুল শিবিরের অন্যান্য নেতারা।
সংসদেও দলের সাংসদরা এই ব্যাপারে আওয়াজ তুলেছেন। যদিও গেরুয়া শিবির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছে এবং পাল্টা কটাক্ষ করে যাচ্ছে রাজ্য সরকারকে। এবার দেখার যে আগামীদিনে জল কতদূর গড়ায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবির এর জন্য চাপে পড়ে কিনা, সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বাংলার রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।



By











