দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: “এখনই দিতে হবে ২৫ শতাংশ ডিএ” এই দাবি তুলে ফের কলকাতার রাজপথে মিছিলে নামলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। মিছিল সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত হয়। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের নেতা সৌমিত্র খাঁও। কী তাদের বক্তব্য? রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গড়িমাসির অভিযোগ তুলে তাদের বক্তব্য, সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না এবং ডিএ নিয়ে কিছু ঘোষণা করা হয়নি তাদের তরফ থেকে। তারা পথে নেমেছে যাতে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সরকার আর রিভিউ পিটিশন দিতে না পারে।
মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য, “এবার কোর্টের নির্দেশ মানুক সরকার। এটা তো কর্মচারীদের কাছে তো শুধু যাবে না। বাজারে টাকাটা ঘুরে আসবে। এর সঙ্গে শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি পাবে পাল্লা দিয়ে। ব্রেক হয়েছে পুরো চক্রটা। শুনানির সময় আদালত বলেছে পয়সা থাকে না কর্মচারীদের অধিকার রক্ষার জন্য। কিন্তু দান-ধ্যানের বেলায় থাকে। কোনটা কি করবে সরকার ঠিক করুক।”
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয় যে দ্রুত বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে রাজ্যের তরফ থেকে। মার্চ মাসের ৬ তারিখের মধ্যে একটি কমিটি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ঝাড়খন্ড হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তরলোক সিং চৌহান, ছত্তিশগঢ় হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গৌতম ভাদুরি ও কম্পট্রোলার অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা তাঁর নমিনেটেড ইন্সটিটিউশনের সবচেয়ে সিনিয়র অফিসিয়াল।
সুপ্রিম কোর্টের আরো নির্দেশ, কমিটিকে ১৫ মের মধ্যে রিপোর্ট তুলে ধরতে হবে এবং রাজ্যকে আয়োজন করে দিতে হবে কমিটিকে লজিস্টিক্যাল সহ সমস্ত সুযোগ সুবিধার। চেয়ারপারসন ঠিক করে দেবেন কমিটির সদস্যদের পারিশ্রমিক। প্রথম কিস্তি দিয়ে দেওয়ার পর, কমিটি যে সূচি তৈরি করে দেবে, রাজ্যকে তা মেনে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “এখনো রায়ের কপি আমরা হাতে পাইনি। সেটা দেখতে হবে পড়ে। কিছু বলতে চাইনা আমরা রায় নিয়ে।” এরপরই কমিটির প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যে কমিটি তৈরি করার কথা বলা হয়েছে, তাতে আছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা। কোনও প্রতিনিধি নেই বাংলার। আমাদের তরফ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যসচিব। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ হবে।”
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেনশনের কথা টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আর কোনও রাজ্যে দেওয়া হয় না পেনশন। আমাদের রাজ্যে যা পাওয়া যায়, অন্য রাজ্যে তা পাওয়া যায় না।” এরপর তিনি বলেন, “আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত যদি পেনশন বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু তাঁরা কী করবেন যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভর করে থাকে?” এবার দেখার যে শেষ পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে কি করা হয় বা পর্বের জল কতদূর গড়ায়।



By











