দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আরজি কর দুর্নীতি মামলায় এমনিতেই জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় চাপে পড়েছেন হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি, তার উপর শনিবার তিনি আত্মসর্মপণ করতে পারলেন না স্পেশাল সিবিআই কোর্টে। যদিও আদালতে ঢোকার আগে তিনি নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটা বড় চক্রান্ত চলছে এবং তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন আদালতে।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আখতার আলির। কিন্তু তাঁকে দেখা যায়নি এবং তা দেখেই রেগে যায় আদালত। এরপরই কোর্টের তরফ থেকে দেওয়া হয় হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপারকে দ্রুত গ্রেপ্তারির নির্দেশ। যদিও এই প্রথমবার নয়, বারবার তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন হাজিরা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য তিনি শনিবার ছুটি নিয়ে আসেন।
কিন্তু যেই কাজের জন্য আসা, তা হয়নি। আদালতের তরফ থেকে গ্রহণ করা হয়নি প্রক্রিয়া এবং আখতার আলি বেরিয়ে যান। সোমবার তা হতে পারে বলে খবর। যদিও তার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন। তিনি সাফ জানান, “দুর্নীতির সঙ্গে আমি কোনভাবেই যুক্ত নই।” এরপর তাঁর অভিযোগ, “একটা বড় চক্রান্ত চলছে যারা জেলে আছে তাদের বার করার জন্য। এই অভিযোগ আমি তুলেছিলাম। ওদের জামিন পেতে সুবিধা হবে আমি জেলে গেলে। লড়াই চালিয়ে যাব আমি।”
প্রসঙ্গত, গত বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফ থেকে খারিজ করে দেওয়া হয় আখতার আলির আগাম জামিনের আবেদন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বক্তব্য, সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে আখতার আলি কথা বেশ ভালোভাবেই জড়িত আর্থিক দুর্নীতি কাণ্ডে। তাঁর আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছিলেন যে তিনি কোনভাবেই এর সঙ্গে যুক্ত নন, বরং তিনিই প্রথম এই অভিযোগ সামনে এনেছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী অমাজিৎ দে দাবি করেছিলেন যে আখতার আলির যুক্ত থাকার একাধিক প্রমাণ রয়েছে সিবিআইয়ের কাছে। এরপরই শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শনিবার তিনি আত্মসমর্পণ করার সুযোগ পাননি। এবার দেখার বিষয় যে আগে কি হয়।



By










