গোলপার্ক অশান্তি: গ্রেপ্তার আরও চার

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ভোটের মুখে যেভাবে গুলিগালা ও বোমাবাজি চলে গোলপার্কে, তা ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বলা ভালো, এই মুহূর্তে এই ঘটনাকে নিয়ে অস্বস্তিতে শাসক শিবির, অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস। তার উপর ধেয়ে আসছে বিরোধীদের কটাক্ষ। রাজ্য সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে তারা। সবমিলিয়ে, ভোটের আগে এই ঘটনা চিন্তা বাড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরের।

তবে এবার এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ৪ জনকে। তাঁদের নাম বাবলু সাউ, ওরফে চিনি (৩২), ইন্দ্রজিৎ মাঝি, ওরফে ছোট বাবু (৩০), জয়ন্ত নস্কর, ওরফে সোনু (২৮) এবং দেবাশিস দাস মণ্ডল, ওরফে ভুটু (৩৮)। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে বাবলু এবং ইন্দ্রজিৎ থাকেন কসবায়, জয়ন্ত থাকেন আনন্দপুরে এবং দেবাশীষ রবীন্দ্র সরোবরে। এর আগে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ জনকে। তবে এখনো পুলিশের জালে আসেননি মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে রবিবার পিকনিককে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি লাগে এবং পরে তা উগ্র রূপ নেয়। গুলি চলার পাশাপাশি হয় বোমাবাজিও। এর জেরে গুলিবিদ্ধ হন একজন এবং আহত হয়েছেন দুজন। তবে পুলিশের তরফ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে পিকনিক নিয়ে অশান্তি হয়েছে নাকি এলাকা দখলদারিকে নিয়ে। তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে যে স্থানীয়রা বেশ আতঙ্কিত, তা না বললেও বোঝা যায়।

উল্লেখ্য, ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায়। গোলপার্কের পঞ্চাননতলায় দুই গোষ্ঠীর অশান্তিকে কেন্দ্র করে একেবারে যুদ্ধের ময়দানের রূপ নয় গোটা এলাকা। বিষয়টি এই পর্যায়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত গুলি চালানোর পাশাপাশি বোমাবাজি পর্যন্ত হয়। রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করা হয় এবং ঘটনায় নাম উঠে আসে কসবা এলাকার অন্যতম আতঙ্ক সোনা পাপ্পুর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দেবাশীষ কুমার ও মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের আরো অভিযোগ, বিধায়ক এবং শাসকদলের জন্যই সোনা পাপ্পুর এত দফরফ। সমগ্র এলাকায় চলছে মাফিয়ারাজ ও সিন্ডিকেট। 

এই ব্যাপারে দেবাশীষ কুমার অবশ্য জানিয়েছেন, “কেউ যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে সে যেই হোক না কেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করবেই পুলিশ প্রশাসন। এটাই নিয়ম এবং আমিও তার গ্রেফতারি চাই।” এরপর ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “যেহেতু আমি জনপ্রতিনিধি, তাই একাধিক অনুষ্ঠানের ছবি থাকতেই পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তো মেহুল চোকসি, নীরব মোদির ছবি রয়েছে। তার মানে কি এটা যে তাঁরা যে দোষ করেছেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করব? যে কারোর ছবি থাকতেই পারে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় কি হয়।

Releated Posts

“একটি গ্যাং ঘুরছে যারা হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল কর্মীদের উপর”: কুণাল ঘোষ

গেরুয়া শিবিরকে বিঁধে কুণাল ঘোষের অভিযোগ, রাজ্যে এই মুহূর্তে একটি ‘গ্যাং’ ঘুরছে যারা হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল কর্মীদের উপর।…

ByByDebojit Mukherjee May 6, 2026

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়া আসলে তাঁর প্রতিবাদের ভাষা”: কুণাল ঘোষ

তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়া আসলে তাঁর প্রতিবাদের ভাষা। এটা সিম্বলিক। যেভাবে বহু আসনে গরমিল হয়েছে…

ByByDebojit Mukherjee May 6, 2026

ভোট-পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য শুভেন্দুর

তিনি বলেন, “আমি নিজে কথা বলেছি ডিজির সঙ্গে। কিন্তু কেউ হাতে তুলে নেবেন না আইন। বজায় রাখুন শান্তিশৃঙ্খলা।”

ByByDebojit Mukherjee May 6, 2026

“জয় কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন”: কপিল সিব্বল

কপিল সিব্বলের বক্তব্য, “জয় কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা বদলা নয়, বদলের নীতিতে বিশ্বাসী।…

ByByDebojit Mukherjee May 6, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top