দেবজিৎ মুখার্জি, পূর্ব বর্ধমান: ভোটমুখী বাংলায় ফের ইডি হানা। মঙ্গলবার সাতসকালে কয়লা পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা হানা দেন দুর্গাপুর, আসানসোল সহ একাধিক জায়গায়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে এই ইডি অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হাওয়ালার মাধ্যমে কালো টাকা কোথায় যেত বা কারা নিত প্রোটেকশন মানি, তা খোঁজ নেওয়া। ঘটনাকে ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
এদিন সকালে দুর্গাপুর মহকুমার বেশ কয়েকটি জায়গায় আধিকারিকরা হানা দেন। জানা গিয়েছে, ইডির তরফ থেকে যাওয়া হয়েছে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের অম্বুজানগরীর বাড়িতেও এবং প্রশ্ন করছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন সিটি সেন্টার ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত বিশ্বাসও। বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি বুদবুদ থানায় পোস্টিং পেলেও এখনো পর্যন্ত চার্জ নেননি মনোরঞ্জন মণ্ডল।
পাশাপাশি, এদিন সকাল ৬টা নাগাদ ইডি আধিকারিকরা হানা দেন দুর্গাপুরে সেপকো টাউনশিপে বালি কারবারি প্রবীর দত্তর বাড়িতেও। এছাড়াও তাঁদের তরফ থেকে যাওয়া হয়েছে সিটি সেন্টারের অম্বেদকর সরণির, পান্ডবেশ্বর ও কাঁকসা থানার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাসের ধারে একটি বাড়িতেও। এই সমস্ত বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে অবৈধ কাজকর্ম করে বিপুল সম্পত্তি করার অভিযোগ উঠেছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে এর আগে একাধিকবার হানা দিয়েছে ইডি এবং তা ঘিরে লাগাতার চলছে রাজনৈতিক তর্কবিতর্ক। একদিকে বিজেপি অভিযোগের আঙ্গুল তুলে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। অন্যদিকে, ঘাসফুল শিবির প্রতিনিয়ত তার পাল্টা দিয়ে চলেছে। সম্প্রতি, আইপ্যাকের অফিস ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা দেওয়ায় রাজ্যে ব্যাপক হইচই পড়েছিল। এমনকি পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীদের নিয়ে। শুধু তাই নয়, এর জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্তও। এবার দেখার বিষয় যে ভোটের আগে এজেন্সি হানা নিয়ে কেমন পরিস্থিতি তৈরি হয় রাজ্যে। আর কী কী হয়, সেটাই এখন নজরে রাখার মতো।



By









