দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: পঞ্চাননতলা বোমাবাজি কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে মুখ খুললেন ঘাসফুল শিবিরের বিধায়ক, তথা দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি, দেবাশিস কুমার। কী বললেন তিনি? তৃণমূল নেতা দ্রুত সোনা পাপ্পুর গ্রেফতারের দাবি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দুজনের একসঙ্গে ছবি থাকতেই পারে, কিন্তু যে অপরাধ করেছেন, তাঁকে নিশ্চয়ই গ্রেফতার করতে হবে।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায়। গোলপার্কের পঞ্চাননতলায় দুই গোষ্ঠীর অশান্তিকে কেন্দ্র করে একেবারে যুদ্ধের ময়দানের রূপ নয় গোটা এলাকা। বিষয়টি এই পর্যায়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত গুলি চালানোর পাশাপাশি বোমাবাজি পর্যন্ত হয়। রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করা হয় এবং ঘটনায় নাম উঠে আসে কসবা এলাকার অন্যতম আতঙ্ক সোনা পাপ্পুর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দেবাশীষ কুমার ও মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের আরো অভিযোগ, বিধায়ক এবং শাসকদলের জন্যই সোনা পাপ্পুর এত দফরফ। সমগ্র এলাকায় চলছে মাফিয়ারাজ ও সিন্ডিকেট। সুতরাং এই ঘটনার জেরে শাসক শিবির একেবারে বেকায়দায় পড়েছে কসবা-ঢাকুরিয়া এলাকায়।
সোমবার যোধপুর বয়েজ স্কুলের গেটে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা-শুভ কামনা জানানোর অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের এই বিষয়ে জানান তৃণমূল বিধায়ক দেবাশীষ কুমার। তিনি বলেন, “কেউ যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে সে যেই হোক না কেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করবেই পুলিশ প্রশাসন। এটাই নিয়ম এবং আমিও তার গ্রেফতারি চাই।” এরপর ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেহেতু আমি জনপ্রতিনিধি, তাই একাধিক অনুষ্ঠানের ছবি থাকতেই পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তো মেহুল চোকসি, নীরব মোদির ছবি রয়েছে। তার মানে কি এটা যে তাঁরা যে দোষ করেছেন, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করব? যে কারোর ছবি থাকতেই পারে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় কি হয়।



By










