দেবজিৎ মুখার্জি: সোমবার দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তারপর পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা ভারতবর্ষের নজর ছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বৈঠকের উপর। সকলেই অপেক্ষায় ছিলেন যে বৈঠক শেষে কি বলবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বেরিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে একহাত নিলেন এবং অভিযোগ তুললেন দুর্ব্যবহারের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি বহুদিন রাজনীতি করেছি দিল্লিতে। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এমন অহংকারী নির্বাচন কমিশন আগে দেখিনি।” তাদের মিথ্যাবাদী তকমা দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো প্রশ্ন তোলেন, “কেন নিশানা করা হচ্ছে বাংলাকে?” জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বেরিয়ে এসেছি ওনার সঙ্গে বৈঠক করে। জমিদারের মতো আচরণ ওনার। আমার সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার কখনও কেউ করেনি। অপমান, অসম্মান করা হয়েছে আমাদের।”
তৃণমূল সুপ্রিমো আরো বলেন, “এখানে বাদ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লক্ষ নাম। এই কাজ সীমা কান্না করেছেন এআই দিয়ে। আমি বলছি, প্রধানমন্ত্রীকে আপনারা জিজ্ঞেস করুন যে ওনার মা-বাবার জন্ম তারিখ জানেন কি?” পাশাপাশি, এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বয়কটের সিদ্ধান্তের কথাও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরবর্তী স্টেপ কি হবে? সেই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সোমবার আলোচনা করা হবে এবং কী কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা ঘোষণা করা হবে আগামীকাল।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, এসআইআরের কারণে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্তকে সঙ্গে নিয়ে, রাজধানীতে গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা রয়েছেন বঙ্গভবনে। তবে সোমবার সকালে হঠাৎই রাজধানীর পুলিশের তরফ থেকে ঘিরে ফেলা হয় চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডের বঙ্গভবন। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটা ঘরে তল্লাশি পর্যন্ত চালানো হয় বলে অভিযোগ।
খবর পেয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাসভবন থেকে বেরিয়ে দিল্লী পুলিশকে একহাত নেন এবং রওনা দেন চালুক্যপুরীর বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছেই পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ান তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁকে সঙ্গ দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানকার বঙ্গভবনে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। হেইলি রোডের বঙ্গভবনে গিয়েও পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতিবাদে বঙ্গভবন ছাড়তে বাধ্য হয় দিল্লী পুলিশ।



By









