দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘মতুয়াদের ভয় দেখানো হচ্ছে’ মন্তব্যের পাল্টা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বললেন তিনি? কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ডায়মন্ড হারবার সাংসদ এর পাল্টা জবাব দেন। গেরুয়া শিবিরের দিকে পাল্টা অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেন যে বিজেপি নেতারাই ভয় দেখাচ্ছেন মতুয়াদের এবং প্রসঙ্গ তোলেন শান্তনু ঠাকুর ও অসীম সরকারের।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, “আমাদের মতুয়া সমাজের নমঃশূদ্র মানুষকে আতঙ্কিত করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে লাগাতার ফোন করছেন শান্তনুজি।” এরপরই উপস্থিত সকলকে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে মতুয়া বা নমঃশূদ্র সমাজের আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। তিনি বলেন, “আমি বলে যাচ্ছি যে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই মতুয়া ও নমঃশূদ্র সমাজের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের ভোটকে ছুঁতেও পারবেন না।”
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পাল্টা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগের আঙুল তুলে দাবি করেন, “মতুয়াদের নিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন ওদের নেতারাই।” এরপরই তিনি গেরুয়া শিবিরের নেতাদের প্রসঙ্গ তোলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সেনাপতি বলেন, “ওদের নেতারাই কেউ বলছেন যে এক লক্ষ নাম বাদ যাবে, আবার কেউ বলছেন নাম বাদ যাবে ৫ লক্ষ মতুয়া ভাইয়ের। আবার কেউ বলছেন নাম বাদ যাবে এক কোটি বাঙ্গালীর। এমনকিছু তো তৃণমূল কংগ্রেস বলেনি।”
প্রসঙ্গত, এদিন অমিত শাহ শুধু মতুয়া ইস্যু নয়, একাধিক ইস্যু তুলে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। এবার দেখার বিষয় যে শাহী বক্তব্যের কোন প্রভাব পড়ে কিনা রাজ্যের মানুষের উপর। দিল্লির নেতাদের প্রচারের উপর ভর করে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে পারে কিনা বিজেপি, এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই ঘিরে যে বাংলার রূপ দিনদিন পাল্টাচ্ছে, তা প্রতিনিয়ত স্পষ্ট। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।



By









