দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পাল্টা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বক্তব্য ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতির? কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ডায়মন্ড হারবার সাংসদ প্রশ্ন তোলেন যে ঘুসপেটিয়ার উদাহরণ কি অমর্ত্য সেন, মহম্মদ শামি, দীপক অধিকারী, ঝুলন গোস্বামী? এখানেই শেষ নয়, এই পর্যন্ত বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের নামের তালিকা প্রকাশ না করা নিয়েও পাল্টা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধুই মুখে ঘুসপেটিয়া। আর তার নমুনা কি অমর্ত্য সেন, মহম্মদ শামি, দীপক অধিকারী, ঝুলন গোস্বামী?” পাশাপাশি, বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের নামের তালিকা প্রকাশ না করা নিয়ে ঘাসফুল শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “গত ৩১শে ডিসেম্বর আমি নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম এবং দাবি করেছিলাম বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের তালিকা প্রকাশ করার। কিন্তু ১ মাস হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।” এর সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশী দাগিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও। অভিষেক বলেন, “নানা জায়গায় বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলায় কথা বলার জন্য। অপমান করা হচ্ছে বাংলার সংস্কৃতিকে।”
বলে রাখা ভালো, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। যদিও রাজ্য সরকার সেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে লাগাতার এবং পাল্টা অভিযোগের আঙুল তোলে গেরুয়া শিবিরের দিকে। এই ব্যাপারে ঘাসফুল শিবির নিজের অবস্থানে জানিয়েছে যে বর্ডার সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সব বিজেপির অধীনে এবং তাদেরই সেটা দেখার দায়িত্ব।
এক্ষেত্রে দেখার যে আগামীদিনে অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায়। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টের তরফ থেকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে কেন্দ্র সরকার যে অর্থ দিয়েছে, এমন সীমান্তবর্তী জমি শীঘ্র হস্তান্তর করতে হবে বিএসএফকে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়। ভোটের আগে বা ভোট এই বিষয়টির কোনও প্রভাব পড়ে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



By









