আধুনিক রাসায়নিক সারের ব্যবহারকে একপাশে ঠেলে ফেলে কৃষির প্রাচীন ঐতিহ্য ও নিজস্ব বীজ সুরক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা। শিলিগুড়ি সংলগ্ন চম্পাসাড়ি অঞ্চলের উত্তর পলাশ এলাকার চাষিরা এখন হারিয়ে যেতে বসা সুগন্ধি ও ঐতিহ্যবাহী একাধিক দেশি ধানের জাত সংরক্ষণে ব্যস্ত। সম্পূর্ণ জৈবিক (Organic) উপায়ে ধান রোপণের এই উদ্যোগ পরিবেশ সচেতন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
হারিয়ে যেতে বসা যেসব দেশি ধানের জাত চাষ হচ্ছে
আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও ঐতিহ্যবাহী বীজ রক্ষা করা এবং কেমিক্যালমুক্ত কৃষিব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করাই উত্তর পলাশের কৃষকদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তাঁদের কৃষিজমিতে যে সমস্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী দেশি ধানের জাত রোপণ করা হচ্ছে:
-
কালো নুনিয়া (Kalo Nunia)
-
সাদা নুনিয়া (Sada Nunia)
-
রাধা তিলক (Radha Tilak)
-
তুলাই পাঞ্জি (Tulai Panji)
কী বলছেন স্থানীয় কৃষকেরা?
এই অভিনব কৃষি উদ্যোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় কৃষক বিষ্ণু রায় জানান, এই চাষে কোনো ধরনের কৃত্রিম বা রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গোবর ও জৈব সারের সাহায্যে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ধরে রাখা হচ্ছে।
বিষ্ণু রায়ের কথায়:
“জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত এই ধান যেমন স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর, ঠিক তেমনই মাটি, জল এবং পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
পরিবেশ ও কৃষি মহলে ব্যাপক প্রশংসা
উত্তর পলাশের কৃষকদের এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই কৃষিবিদ ও পরিবেশ প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। তাঁদের আশা, দেশি ধানের এই ঐতিহ্যবাহী জাতগুলির প্রসার সাধারণ মানুষকে কেবল নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্যই উপহার দেবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় বীজ সংরক্ষণ এবং টেকসই বিকল্প কৃষি ব্যবস্থাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
________



By











