• Home
  • দেশ
  • গুরুগ্রামে চাঞ্চল্য: উদ্ধার বহুজাতিক সংস্থার কর্মীর ঝুলন্ত দেহ, স্ত্রী আটক ও পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ

গুরুগ্রামে চাঞ্চল্য: উদ্ধার বহুজাতিক সংস্থার কর্মীর ঝুলন্ত দেহ, স্ত্রী আটক ও পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ

Image

গুরুগ্রাম: হরিয়ানার গুরুগ্রামে এক বহুজাতিক সংস্থার (MNC) কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘর থেকে উদ্ধারের সময় সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল ওই যুবকের নিথর দেহ। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে মারাত্মক ধোঁয়াশা। মৃতের পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই নিহতের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর ভয়াল দৃশ্য

মৃত ব্যক্তির নাম সঞ্জীব যাদব (Sanjeev Yadav)। তিনি মূল অমৃ্তসরের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে গুরুগ্রামের সুরতনগরে স্ত্রী মনপ্রীত কউর (Manpreet Kaur) ও তাঁদের সাত বছরের এক সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন।

বৃহস্পতিবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় স্ত্রী মনপ্রীতের। বারবার ডাকার পরও সাড়া না পাওয়ায় কোনোক্রমে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তিনি। সেখানে সিলিং ফ্যান থেকে স্বামীর ঝুলন্ত দেহ দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন মনপ্রীত।

নাবালক ছেলের বিতর্কিত ভূমিকা!

মায়ের চিৎকার শুনে ছুটে আসে তাঁদের সাত বছরের পুত্রসন্তান। অভিযোগ, বাবার এমন মর্মান্তিক পরিণতি দেখেও সেই দৃশ্য নিজের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করতে শুরু করে ওই নাবালক। এই আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পরকীয়ায় অশান্তি নাকি খুন? পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ

ঘটনার পরেই সঞ্জীবের বাবা-মাকে ফোনে আত্মহত্যার খবর দেন মনপ্রীত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক বা মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করেছেন সঞ্জীব। তবে নিহতের পরিবার এই দাবি পুরোপুরি মেনে নিতে নারাজ।

  • বোনের অভিযোগ: সঞ্জীবের বোন কিরণের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তীব্র অশান্তি চলছিল। বৌদি মনপ্রীত তাঁদের দাদার কাছে বিবাহবিচ্ছেদ (Divorce) চেয়েছিলেন।

  • বাবার দাবি: সঞ্জীবের বাবার অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, মনপ্রীত অন্যদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তাঁর ছেলেকে খুন করেছেন!

  • রহস্যময় ভিডিয়ো: সঞ্জীবের ঝুলন্ত দেহের যে ভিডিয়ো করা হয়েছে, তাকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে দাবি করেছেন কিরণ। কেন ওই পরিস্থিতিতে ভিডিয়ো তোলা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আইনি পদক্ষেপ: পরিবারের তরফে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ মনপ্রীতকে আটক করেছে।

প্রেম থেকে বিয়ে, আট বছর পর করুণ পরিণতি

পুলিশ সূত্রে খবর, সঞ্জীব ও মনপ্রীতের প্রেমের সূত্রপাত প্রায় আট বছর আগে। মনপ্রীত অম্বালার বাসিন্দা। প্রায় আট বছর আগে গুরুগ্রামের এক সংস্থায় কাজ করার সময় সঞ্জীবের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়।

আলাপ থেকে বন্ধুত্ব এবং পরবর্তী সময়ে তা গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ২০১৮ সালে পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে আট বছরের সেই সম্পর্ক ও সাত বছরের সন্তান থাকা সত্ত্বেও এভাবে মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। পুলিশ ঘটনার পারিপার্শ্বিক সমস্ত দিক ও ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।

________

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top