• Home
  • জেলার খবর
  • Pata Chitra: ঐতিহ্যবাহী পটচিত্রের ক্যানভাস ও নির্মাণশৈলী; তেঁতুলের দানার অনন্য ব্যবহার

Pata Chitra: ঐতিহ্যবাহী পটচিত্রের ক্যানভাস ও নির্মাণশৈলী; তেঁতুলের দানার অনন্য ব্যবহার

Traditional Patachitra Canvas and Construction: Odisha's temple-centric art and unique use of tamarind seeds

বাংলার পাশাপাশি ওড়িশার লোকশিল্পের ইতিহাসে ‘পটচিত্র’ এক অনন্য সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। সূক্ষ্ম তুলির টান, প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার এবং ধর্মীয় আখ্যানের উপস্থাপনায় তৈরি পটচিত্র কেবল একটি ছবি নয়; বরং তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা লোকজ ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের জীবন্ত রূপ।

এটাও পড়ুনঃ বদলে যাবে দুই শহরের মানচিত্র! কলকাতা-শিলিগুড়ি…

ক্যানভাস প্রস্তুতি ও তেঁতুলের দানার ব্যবহার

পটচিত্র আঁকার জন্য সাধারণ কাপড়ের ওপর সরাসরি কাজ করা হয় না। এর ক্যানভাস প্রস্তুত করার মাধ্যমেই লুকিয়ে থাকে স্থায়িত্বের মূল রহস্য:

  • প্রাকৃতিক আঠা: পুরানো সুতির কাপড়ের দুটি স্তরকে জোড়া লাগাতে তেঁতুলের দানা ফুটিয়ে তৈরি বিশেষ প্রাকৃতিক আঠা ব্যবহার করা হয়।

  • প্রলেপ ও মসৃণকরণ: তেঁতুলের দানার আঠার সাথে চকজাতীয় উপাদানের মিশ্রণ কাপড়ে বারংবার প্রলেপ দিয়ে শুকানো হয়। এরপর দুই ধরনের পাথর দিয়ে ক্যানভাসটিকে ঘষে ঘষে এক শক্ত, মসৃণ ও চকচকে পৃষ্ঠ তৈরি করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে।

  • এটাও পড়ুনঃ দুর্যোগের শঙ্কা, ফের বাড়বে বৃষ্টি

প্রাকৃতিক রং ও অলঙ্করণ শৈলী

পটচিত্রে ঐতিহ্যগতভাবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে প্রস্তুত রং ব্যবহৃত হয়:

  1. সাদা: শাঁখের গুঁড়ো থেকে।

  2. কালো: প্রদীপের কালি (ঝুল) থেকে।

  3. লাল: হিঙ্গুল থেকে।

  4. হলুদ: হরতাল ও উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে।

ছবি সম্পূর্ণ আঁকার পর তা সুরক্ষার জন্য এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে রেজিনজাত উপাদানের ল্যাকার (lacquer) প্রলেপ দেওয়া হয়। ঘন অলঙ্করণ, সুদৃঢ় কালো আউটলাইন, সমতল রঙের ব্যবহার এবং চারপাশে জটিল সীমানা নকশা পটচিত্রকে অনন্য মাত্রা দেয়।

উৎপত্তি, ইতিহাস ও প্রধান কেন্দ্র

  • মন্দিরকেন্দ্রিক ঐতিহ্য: পটচিত্রের জন্ম ও বিকাশ মূলত পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে। জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা, কৃষ্ণলীলা, দশাবতার, রামায়ণ ও মহাভারতের নানা পর্ব এতে ফুটে ওঠে।

  • শিল্পীদের গ্রাম: ওড়িশার পুরীর রঘুরাজপুর গ্রামকে পটচিত্রের মূল কেন্দ্র বলা হয়। এছাড়া দণ্ডশাহী ও খপসাক গ্রামে চিত্রকর, মহারানা ও মহাপাত্র পরিবারের শিল্পীরা বংশপরম্পরায় এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

  • পুনরুজ্জীবন: ২০ শতকের শুরুতে এর প্রভাব কমলেও ১৯৫০-এর দশকে হ্যালিন জেলি এবং বিভিন্ন শিল্প-সংগ্রাহকদের উদ্যোগে এটি পুনরুজ্জীবিত হয়।

আধুনিকতা ও বর্তমান রূপান্তর

সময়ের সাথে সাথে পটচিত্রের মাধ্যম ও ব্যবহারিক দিক বহুধা বিস্তৃত হয়েছে:

  • নতুন মাধ্যম: শুধু কাপড় বা পটে সীমাবদ্ধ না থেকে বর্তমানে তালপাতা, কাঠের বাক্স, বাটি, নারকেলের খোল, দরজা, পাট ও রেশমের কাপড়েও পটচিত্র আঁকা হচ্ছে।

  • ধারার বৈচিত্র্য: ওড়িশার গঞ্জিফা কার্ড, চৌকো পট কিংবা দীর্ঘ জড়ানো পটের রূপ আজও মানুষের মন জয় করে আসছে।

যুগ বদলালেও কাপড়ের স্তর, তেঁতুলের দানার আঠা এবং শিল্পীর নৈপুণ্যের এই প্রাচীন রসায়ন পটচিত্রকে আজও জীবন্ত রূপ দিয়ে রেখেছে।

Scroll to Top