কলকাতা / শিলিগুড়ি:
পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আনতে এবং যানজট সমস্যা সমাধানে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র ও রাজ্য। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিকাঠামো তহবিল (CRIF)-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গের মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI)-এর সাথে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরই কলকাতা ও শিলিগুড়ি ঘিরে গ্রিনফিল্ড রিং রোড (Greenfield Ring Road) প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেত মিলল।
এটাও পড়ুনঃ স্মৃতির সরণিতে পাঁচ দশক: দূরদর্শন কেন্দ্র…
প্রকল্পের রূপরেখা ও ভৌগোলিক ব্যাপ্তি
১. কলকাতার পেরিফেরাল রিং রোড:
-
দৈর্ঘ্য: প্রস্তাবিত এই রিং রোডের আনুমানিক দৈর্ঘ্য হতে চলেছে ১৩০ থেকে ২০০ কিলোমিটার।
-
উদ্দেশ্য: দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণ ভারতগামী দূরপাল্লার ভারী ও ভারী পণ্যবাহী যানবাহনগুলিকে শহরের মূল অংশে প্রবেশ না করিয়ে বাইপাস রুটে বের করে দেওয়া।
২. শিলিগুড়ির রিং রোড:
-
গুরুত্ব: শিলিগুড়ি শহরকে ‘গেটওয়ে অব নর্থ-ইস্ট’ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার বলা হয়। জাতীয় সড়ক ধরে আসাম বা পার্শ্ববর্তী পার্বত্য রাজ্যগামী ভারী ট্রানজিট ট্রাফিক শহরের যানজট বাড়ায়।
-
পরিকল্পনা: নতুন রিং রোডের মাধ্যমে পণ্যবাহী লরি ও ইন্টার-স্টেট ট্রাফিককে শহরের বাইরে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
যেসব প্রধান ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে
-
যানজট নিরসন: বর্তমানে কলকাতার কোনা এক্সপ্রেসওয়ে, সাঁতরাগাছি, ব্যারকপুর ট্রাঙ্ক রোড বা শিলিগুড়ির মূল জাতীয় সড়কগুলিতে পণ্যবাহী ট্রাকের কারণে যে দৈনন্দিন তীব্র যানজট তৈরি হয়, তা অনেকাংশে কমে আসবে।
-
দূষণ নিয়ন্ত্রণ: শহরের ব্যস্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী যানবাহনের প্রবেশ কমলে ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
-
লজিস্টিকস ও বাণিজ্য বৃদ্ধি: রিং রোডের কারণে পণ্য পরিবহনের সময় এক ধাক্কায় অনেকটা কমে আসবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের চা, কাঠ, শাকসবজি এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্যবসায়িক পণ্য অনেক দ্রুত আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে।
এটাও পড়ুনঃ ফের লেজ়ার আলো! অবতরণের সময় সমস্যায় আন্তর্জাতিক…
কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় ও সার্বিক পরিকাঠামো
১২০০ কোটি টাকার অনুমোদিত অর্থনৈতিক প্যাকেজে শুধু রিং রোড নির্মাণই নয়, বরং স্থান পাচ্ছে:
-
রাজ্য ও জাতীয় সড়কের বিদ্যমান সংযোগগুলির মানোন্নয়ন।
-
নতুন সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ।
-
গ্রামীণ ও আঞ্চলিক রুটগুলির সাথে মূল হাইওয়ের সংযোগ সুদৃঢ় করা।
সড়ক পরিবহন ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগের এটি একটি সদর্থক দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে। প্রকল্পগুলি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে রাজ্য তথা পুরো পূর্ব ভারতের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।



By











