দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ফের গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা! তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে, বড়বাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে, বুধবার গ্রেফতার হলেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
একাধিক ইস্যুতে উত্তাল ভোট-পরবর্তী বঙ্গ রাজনীতি, যার মধ্যে অন্যতম তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের লাগাতার গ্রেফতারি। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বঙ্গ রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা ঘাসফুল শিবির এটিকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে দাবি করে যাচ্ছে এবং তীব্র সমালোচনা করছে গেরুয়া শিবিরের।
এই আবহে গ্রেফতার হলেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মা। তাঁর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল তোলাবাজি, প্রতারণা এবং বলপূর্বক অর্থ আদায়ের। তার ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয় বড়বাজার থানায়। তদন্তে নেমে পুলিশের তরফ থেকে মামলার রুজু করা হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি ধারায় এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হন কাউন্সিলর। পুলিশ সূত্র মারফত জানা যায় যে ধৃত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নানা সময়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, তিনি জড়িত ছিলেন প্রভাব খাটিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো কাজেও। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর তরফ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ১৮তম বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। এরপরই রাজ্যের নানা প্রান্তে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা, যা ঘিরে বর্তমানে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ঘাসফুল শিবিরের একাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে। পথে নেমেও এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে দলের তরফ থেকে।
তবে তা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত রয়েছে। এর জেরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ কি? এখানেই শেষ নয়, এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে যে সত্যিই কি এবার উঠে যাওয়ার পথে দল। কী হতে চলেছে আগামী দিনগুলিতে? এই জাতীয় একাধিক প্রশ্ন এখন ঘোরাফেরা করছে গোটা রাজ্যে। সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে আগে কি হয়।



By










