দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রবিবার গভীর রাতে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হয় একাধিক দোকানপাট। পথে নেমে প্রতিবাদ জানান বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা। কিন্তু তাতেও ঠেকানো যায়নি বুলডোজার অভিযান। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন সেখানকার তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। তবে তাতেও ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও হকাররা।
সায়নীর বক্তব্য, “যেভাবে বুলডোজার চালানো হয়েছে স্টেশন রোডে, তা বেশ হৃদয়বিদারক। হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে এই উচ্ছেদ অভিযান বঞ্চিত করছে তাদের আয়ের উৎস থেকে। একেবারেই অন্যায্য এভাবে বলপূর্বক উচ্ছেদ করা কোনও আগাম নোটিস বা ইতিবাচক আলোচনা ছাড়া। উদ্বেগজনক প্রশাসনের নীরবতা পুনর্বাসন নিয়ে।”
কিন্তু তাঁর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় হকার ও বাসিন্দারা। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, সায়নীকে দেখা যায়নি যখন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছিল তাঁদের দোকানপাট। শুধু তাই নয়, একাংশ এই অভিযোগও করেছেন যে সংকটের মুহূর্তে তাঁরা পাশে পাননি জনপ্রতিনিধিদের। ঘটনা প্রসঙ্গে হকার সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাস্তা দখলের পক্ষে নয় তারা। তবে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে ভবিষ্যৎ যদি অনেকদিন ধরে ব্যবসা করে আসা পরিবারগুলিকে উচ্ছেদ করা হয় কোনও বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন থেকে। সেদিন বুলডোজার দেখা যায় যাদবপুরের ২ নম্বর স্টেশনের বাইরে। উচ্ছেদের জল্পনা ছড়াতে প্রতিবাদ জানান সিপিএম নেতা-কর্মীরা। তাঁরা জোর গলায় প্রতিবাদ করেন যে পুনর্বাসন না দেওয়া হলে সম্ভব নয় উচ্ছেদ। সেদিন অবশ্য কোনও অশান্তি হয়নি। রবিবার রাতে বুলডোজার চলার ইঙ্গিত মেলে। বাম ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন ২১২ বাসস্ট্যান্ডে। তাতে যোগ দেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।
রেলপুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সব রাস্তা। তখন সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন। পুলিশ মাইকিং করে এলাকা ফাঁকা করার অনুরোধ করে। তবে তাতে কোনও লাভ না হয়ে বরং বাড়তে থাকে উত্তেজনা। লাঠিচার্জ শুরু হলে তাতে গুরুতর আঘাত পান অনেকে। রক্তারক্তি হওয়ার পাশাপাশি মাথা ফাটে অনেকের। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে। এরপরই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় একাধিক অবৈধ দোকান ও নির্মাণ। কিছুক্ষণের মধ্যে খালি হয়ে যায় গোটা এলাকা। শোকের ছায়া নেমে আসে ব্যবসায়ীদের উপর। যদিও সোমবার আলিপুর আদালতের তরফ থেকে জামিন দেওয়া হয় সৃজন সহ বাকিদের। উল্লেখ্য, এর আগে রাতের অন্ধকারে রেলের তরফ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল হাওড়া, শিয়ালদহ এবং দমদম স্টেশনেও।



By










