রাষ্ট্রপতিকে বড় জবাব মমতার! কী বললেন?

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রশাসনের কাজে অসন্তোষ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে মন্তব্য বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কী বললেন তিনি? শনিবার ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি এই ব্যাপারে পাল্টা দেন রাষ্ট্রপতিকে। এখানেই শেষ নয়, তিনি মনিপুর, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রে হওয়া আদিবাসী নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন এবং তাঁকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে তখন তিনি কেন চুপ ছিলেন এবং সমবেদনা জানাননি? তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি যে বিজেপি আপনাকে ব্যবহার করেছে ম্যাডাম।” পাশাপাশি, তাঁর অনুষ্ঠান সম্পর্কে না জানা ও মানুষের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করার কথা তুলে ধরেন তিনি।

শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আসেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে। সেখানে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি এই অভিযোগ তোলেন যে রাজ্যে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এসেছেন অথচ মুখ্যমন্ত্রী বা দলের অন্য কোন মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। এমনটা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রোটোকল ভাঙ্গার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে এবং ভালবাসি বাংলার মানুষকে। বোধহয় মমতা রাগ করেছেন এবং সেই কারণে তিনি বা অন্য কোন মন্ত্রী আসেননি আমাকে স্বাগত জানাতে। যাই হোক সেটা কোন বড় ব্যাপার নয়।”

সন্ধ্যায় এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওনার আজকের অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতাম না। এটা বেসরকারি। রাজ্য এখানে কি করবে? এখন ধরনায় আছি আমি। মানুষ ভোটাধিকার হারাচ্ছেন। লড়াই করছি তাঁদের হয়ে। এখন তো এটাই সবচেয়ে দরকারি কাজ আমার কাছে।” তাঁর সংযোজন, “আপনি প্রাধান্য হতে পারেন বিজেপির। আমার কাছে সব আমার জনতাই।”

এরপরই আদিবাসী উন্নয়নে খতিয়ান দেখিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রশ্ন, “কিভাবে আপনি বলেন যেখানে কোন কাজ করা হয়নি আদিবাসীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে? কি কাজ হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে? আমাদের কাজের কথা বলবেন না। রাজ্য সরকার প্রতিটা ক্ষেত্রে তাদের পাশে আছে। এমনকি আমরা সম্মান দিয়েছি আলচিকি ভাষাকে। এখানে এখানে আলচিকি ভাষায় ডব্লুবিসিএস পরীক্ষাও হয়। এটা কটা রাজ্যে হয়েছে?” এর সঙ্গে গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দেশের এক নম্বর নাগরিক, সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান, শ্রদ্ধা করার মতো মানুষ। তাঁকে সম্মান করি আমরা। এখানে রাজনীতি করতে বিজেপি তাঁকেও পাঠিয়ে দিল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top