দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ফর্ম-৬ বিতর্কে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি সাফ জানান যে রোজই অনেকে অনেক নথি জমা করতে আসেন। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারিও দেন। কী সেই হুঁশিয়ারি? তিনি জানান যে তিনি সেই মুহূর্তেই পদত্যাগ করবেন যদি কোনও ইআরও বা অন্য কেউ প্রমাণ আনতে পারেন যে তিনি নাম যুক্ত বা বাদ দিতে বলেছেন।
ভোটমুখী বাংলায় এই মুহূর্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ফর্ম-৬। মঙ্গলবার নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর চত্বর, এই ইস্যুকে ঘিরে, রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছাড়ার পর চরম বিক্ষোভ দেখানো হয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও শাসকদলপন্থী বিএলওদের তরফ থেকে। এই বিক্ষোভকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।
বিক্ষোভকারী তৃণমূল সমর্থকদের অভিযোগ, বাংলার ভোটার তালিকায় অন্য রাজ্যের ভোটারদের যুক্ত করা হচ্ছে ফর্ম–৬ জমা দেওয়ার দ্বারা। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা চলছে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম। তাঁদের অভিযোগ, এক ব্যক্তি অজস্র ফর্ম–৬ জমা দিতে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছাড়ার পর এবং তাঁকেই ধরে ফেলেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। সেই ব্যক্তি নাকি স্বীকার করেছেন প্রায় ৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার কথা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই চত্বরে শীঘ্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। শাসকদলের সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরাও।
সেই আবহে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের অফিসে এখানে একগুচ্ছ ফর্ম-৬ জমা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আমার তরফ থেকে কাল পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে যে এটি একটি সরকারি অফিস। একটা রিসিভ সেকশন আছে। কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই কোনও সরকারি অফিসে। যে কেউ যত সংখ্যক নথি, কাগজ, মেল, ফোন কল যা কিছু চান দিতে পারেন।”
তাঁর বক্তব্য, “এটা রিসিভ করতে হয় আমাদের ডাক সেকশনে। রোজ এক লক্ষ, একটা, দশ লক্ষ কাগজও আসতে পারে। নেই কোনও নিষেধাজ্ঞা। আমার কাছে খবরও থাকে না এটা যখন আসে সিইও বা অফিসের হেড হিসেবে। স্ট্রাকচারড গর্ভনমেন্ট এটা। এখানে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য সকল অফিসার। সকলের উপর লাগু আছে সার্ভিস কন্ডাক্ট।” এখানেই শেষ নয়, বাইরের ভোটারদের নাম তোলা অভিযোগে পাল্টা হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমি সেই মুহূর্তেই পদত্যাগ করব যদি কোনও ইআরও বা অন্য কেউ প্রমাণ আনতে পারেন যে আমি নাম যোগ বা বাদ দিতে বলেছি।”



By










