দেবজিৎ মুখার্জি, নদীয়া: সুজিত বসুর পর গ্রেপ্তার আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী। বেআইনিভাবে সরকারি ত্রাণসামগ্রী জমিয়ে রাখার অভিযোগে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হলো রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে। ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক হইচই পড়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
ঘটনার উৎপত্তি উজ্জ্বল বিশ্বাসের কৃষ্ণনগরের বাড়িতে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রী জনরোষের মুখে পড়েন। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, তাঁর বাড়িতে বহুদিন ধরেই নানা সরকারি ত্রাণসামগ্রী জমিয়ে রাখা ছিল। অভিযোগ, সরকারি ত্রিপল তোলা হচ্ছিল তাঁর কৃষ্ণনগরের বাড়ির সামনে একটি গাড়িতে। তা নজরে আসতেই অনেকের সন্দেহ শুরু হয়। খবর জানাজানি হতেই স্থানীয়রা জড়ো হন তাঁর বাড়ির সামনে। তাঁদের অভিযোগ, নানা ত্রাণসামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর বক্তব্য, তা আনা হয়েছিল ঈদে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে বিতরণের জন্য। কিছু বিলিয়ে দেওয়া হলেও বাকিটা ছিল।
তীব্র জনরোষের মধ্যেই উজ্জ্বল বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ খানিকক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সব দিক।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ১৮তম বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। এরপরই রাজ্যের নানা প্রান্তে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা, যা ঘিরে বর্তমানে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ঘাসফুল শিবিরের একাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন। পথে নেমেও এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে দলের তরফ থেকে।
তবে তা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত রয়েছে। এর জেরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ কি? এখানেই শেষ নয়, এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে যে সত্যিই কি এবার উঠে যাওয়ার পথে দল। কী হতে চলেছে আগামী দিনগুলিতে? এই জাতীয় একাধিক প্রশ্ন এখন ঘোরাফেরা করছে গোটা রাজ্যে। সেক্ষেত্রে দেখার বিষয় যে আগে কি হয়।



By










