দেবজিৎ মুখার্জি, বীরভূম: এবার কি গ্রেফতার হওয়ার পথে আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী? ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগে বোলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে। তবে তিনি একা নন, অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তৃণমূল কর্মী বাবু দাস, রায়পুর-সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নিখিল বাচার সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা রায়পুর-সুপুর অঞ্চলের একাধিক বিজেপি কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের সময়ে হুমকি দেন প্রাক্তন মন্ত্রী এবং এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগের স্বপক্ষে কয়েকটি ছবি ও তথ্য জমা দেওয়া হয় তাঁদের তরফ থেকে।
বিজেপি কর্মী পথিক মাঝি অভিযোগ পত্র জানিয়েছেন যে ৩ মে ২০২১ সালে ফল বেরোনোর পর রায়পুর-সুপুর অঞ্চলে কাকুটিয়া, সেনকাপুর, সুপুর, নুরপুর, রজতপুর সহ নানা এলাকায় হয় ভোট পরবর্তী হিংসা। তাঁর অভিযোগ, আক্রমণ করা হয় একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে। শুধু তাই নয়, লুটপাট পর্যন্ত চলে। রেহাই পাননি এলাকার মহিলারাও। অভিযোগকারী বিজেপি কর্মীর বক্তব্য, একইভাবে ২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোট করা হয়। একই ঘটনা ঘটে ২৪ সালের ভোটেও। তিনি বলেন, “হুমকি দেওয়া হয়েছিল প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে। ওটা ঘটনায় জড়িত বোলপুর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের স্বামী তৃণমূল কর্মী বাবু দাস।”
জানা যায়, বাবু দাস চন্দ্রনাথ সিনহার ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত এবং তিনি আলোচনায় রয়েছেন একাধিক ঘটনায়। বর্তমানে তিনি লুকিয়ে রয়েছেন এবং তিনিই নানা মঞ্চ থেকে নিজের বক্তব্যের দ্বারা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছেন বিজেপি কর্মীদের মধ্যে। এই অভিযোগও রয়েছে যে তিনি বলেছেন, “হরিবল বলতে বলতে অজয় নদীতে বিসর্জন দেওয়া হবে।” বিজেপি কর্মী বাদল বৈদ্যের বক্তব্য, “আমাদের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে লাগাতার হুমকি দেওয়া হয়েছে প্রকাশ্য সভা থেকে। এছাড়াও মানুষ এখনো ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী অত্যাচার ভুলতে পারেনি। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা দোষীদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করুক।” এখনো পর্যন্ত এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি চন্দ্রনাথ সিনহা। কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি বাবু দাসেরও। বোলপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন,” লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে খতিয়ে দেখে।”



By










