• Home
  • জেলার খবর
  • “ভয় দেখানো যাবে না পুলিশ দিয়ে” সৃজনের পাশে নওশাদ

“ভয় দেখানো যাবে না পুলিশ দিয়ে” সৃজনের পাশে নওশাদ

Image

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের পাশে দাঁড়ালেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বামেদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তিনি জানালেন যে বামপন্থীরা ও আইএসএফ রাস্তায় আছে। এখানেই শেষ নয়, রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়ে তিনি দাবি করেন যে সরকারের দায়িত্ব কর্মসংস্থান বানানো, রুজি-রুটি ছিনিয়ে নেওয়া নয়। পাশাপাশি, সমালোচনা করেন প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসেরও।

রবিবার হকার উচ্ছেদ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় যাদবপুরে। তা রুখতে গিয়ে গ্রেফতার হন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সহ আরো অনেকে। সোমবার আলিপুর আদালতের তরফ থেকে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়। আদালত চত্বরেই নওশাদ দেখা করেন সৃজনের সঙ্গে। ভাঙরের বিধায়ক বামপন্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি সমালোচনা করেন রাজ্য সরকারের নীতির। এখানেই শেষ নয়, সমালোচনা করেন তৃণমূল কংগ্রেসেরও।

নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “হকার উচ্ছেদ পুনর্বাসন না দিয়ে চলবে না। সরকারের কাজকর্ম সংস্থান তৈরি করা, মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া নয়। রাস্তায় আছেন বামপন্থীরা। আইএসএফও রাস্তায় আছে। কোথাও নেই তৃণমূল। আমরা মাঠে-ময়দানে থাকব জনতার কণ্ঠ হয়ে, মানুষের কথা আইনসভায় তুলে ধরব। রুখে দাঁড়াব আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ভয় দেখানো যাবে না পুলিশ দিয়ে।”

প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন থেকে। সেদিন বুলডোজার দেখা যায় যাদবপুরের ২ নম্বর স্টেশনের বাইরে। উচ্ছেদের জল্পনা ছড়াতে প্রতিবাদ জানান সিপিএম নেতা-কর্মীরা। তাঁরা জোর গলায় প্রতিবাদ করেন যে পুনর্বাসন না দেওয়া হলে সম্ভব নয় উচ্ছেদ। সেদিন অবশ্য কোনও অশান্তি হয়নি। রবিবার রাতে বুলডোজার চলার ইঙ্গিত মেলে। বাম ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন ২১২ বাসস্ট্যান্ডে। তাতে যোগ দেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

রেলপুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সব রাস্তা। তখন সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন। পুলিশ মাইকিং করে এলাকা ফাঁকা করার অনুরোধ করে। তবে তাতে কোনও লাভ না হয়ে বরং বাড়তে থাকে উত্তেজনা। লাঠিচার্জ শুরু হলে তাতে গুরুতর আঘাত পান অনেকে। রক্তারক্তি হওয়ার পাশাপাশি মাথা ফাটে অনেকের। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে। এরপরই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় একাধিক অবৈধ দোকান ও নির্মাণ। কিছুক্ষণের মধ্যে খালি হয়ে যায় গোটা এলাকা। শোকের ছায়া নেমে আসে ব্যবসায়ীদের উপর। উল্লেখ্য, এর আগে রাতের অন্ধকারে রেলের তরফ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল হাওড়া, শিয়ালদহ এবং দমদম স্টেশনেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top