দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রবিবার রাতে চরম উত্তেজনা ছড়ালো যাদবপুরে। ঘটনায় আটক করা হয় এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সহ আরও অনেককে। এখানেই শেষ নয়, অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন পুলিশের লাঠিচার্জে। প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে তাঁদের। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন থেকে। সেদিন বুলডোজার দেখা যায় যাদবপুরের ২ নম্বর স্টেশনের বাইরে। উচ্ছেদের জল্পনা ছড়াতে প্রতিবাদ জানান সিপিএম নেতা-কর্মীরা। তাঁরা জোর গলায় প্রতিবাদ করেন যে পুনর্বাসন না দেওয়া হলে সম্ভব নয় উচ্ছেদ। সেদিন অবশ্য কোনও অশান্তি হয়নি। রবিবার রাতে বুলডোজার চলার ইঙ্গিত মেলে। বাম ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন ২১২ বাসস্ট্যান্ডে। তাতে যোগ দেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।
রেলপুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সব রাস্তা। তখন সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন। পুলিশ মাইকিং করে এলাকা ফাঁকা করার অনুরোধ করে। তবে তাতে কোনও লাভ না হয়ে বরং বাড়তে থাকে উত্তেজনা। লাঠিচার্জ শুরু হলে তাতে গুরুতর আঘাত পান অনেকে। রক্তারক্তি হওয়ার পাশাপাশি মাথা ফাটে অনেকের। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে।
এরপরই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় একাধিক অবৈধ দোকান ও নির্মাণ। কিছুক্ষণের মধ্যে খালি হয়ে যায় গোটা এলাকা। শোকের ছায়া নেমে আসে ব্যবসায়ীদের উপর। প্রসঙ্গত, এর আগে রাতের অন্ধকারে রেলের তরফ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল হাওড়া, শিয়ালদহ এবং দমদম স্টেশনেও। এবার দেখার বিষয় যে ঘটনার জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়। কী হয় আগামীদিনে? আর কী কী রয়েছে এই পর্বে? এই সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন এখন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। এবার দেখার আগে কি হয়।



By










