• Home
  • জেলার খবর
  • “সমস্ত সীমা পার করেছে” রাষ্ট্রপতির অপমান নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

“সমস্ত সীমা পার করেছে” রাষ্ট্রপতির অপমান নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

Image

দেবজিৎ মুখার্জি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। তার উপর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেসের এসআইআরের অর্ধসমাপ্ত চূড়ান্ত তালিকার বিরোধিতা করে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে প্রতিবাদ জানানোতে। তার মাঝে পরিস্থিতি আরো খারাপ হলো রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গসফরে তৃণমূল সুপ্রিমো বা দলের অন্য কোন মন্ত্রীর স্বাগত না জানানোকে কেন্দ্র করে। বিষয়টিকে অসম্মান বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও দাবি করেছেন যে সমস্ত সীমা পার করে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আসেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে। সেখানে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি এই অভিযোগ তোলেন যে রাজ্যে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এসেছেন অথচ মুখ্যমন্ত্রী বা দলের অন্য কোন মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। এমনটা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রোটোকল ভাঙ্গার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে এবং ভালবাসি বাংলার মানুষকে। বোধহয় মমতা রাগ করেছেন এবং সেই কারণে তিনি বা অন্য কোন মন্ত্রী আসেননি আমাকে স্বাগত জানাতে। যাই হোক সেটা কোন বড় ব্যাপার নয়।”

বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র  এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন  সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”

প্রসঙ্গত, এই ব্যাপারে জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে। তিনি বলেছেন, “আমি দুঃখিত, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি যে বিজেপি আপনাকে ব্যবহার করেছে ম্যাডাম।” শুধু তাই নয়, তিনি আরো জানিয়েছেন, “ওনার আজকের অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতাম না। এটা বেসরকারি। রাজ্য এখানে কি করবে? এখন ধরনায় আছি আমি। মানুষ ভোটাধিকার হারাচ্ছেন। লড়াই করছি তাঁদের হয়ে। এখন তো এটাই সবচেয়ে দরকারি কাজ আমার কাছে।” আপনি প্রাধান্য হতে পারেন বিজেপির। আমার কাছে সব আমার জনতাই।” এবার দেখার বিষয় যে এর জল কতদূর গড়ায়।

Releated Posts

আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি তৃণমূল সরকারের অধ্যায়, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্যপাল

তৃতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সাংবিধানিক মেয়াদ ছিল ৭ তারিখ অবধি। নিয়ম অনুসারে পুরোনো বিধানসভার কার্যকারিতা আর থাকে না…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট রামগোপাল ভার্মার

তাঁর দাবি, অনেক বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও এমন অবস্থান তাঁর কাছে অবাক করা বিষয়। তিনি মনে করেন যে…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

শুরু হয়েছে রাজ্যের নানা হলে ‘দ্যা বেঙ্গল ফাইলস’ দেখানোর পরিকল্পনা

টানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতা অতিক্রম করে অবশেষে রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির পথে এগোলো। শহরের পাশাপাশি জেলার বহু…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

চন্দ্রনাথের হত্যা নিয়ে মতামত জানালেন রুদ্রনীল-অগ্নিমিত্রা

ঘটনাটি নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য তুলে ধরেন বিজেপি নেতা, তথা বিশিষ্ট অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেন যে…

ByByDebojit Mukherjee May 7, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top