দেবজিৎ মুখার্জি: ভোটমুখী বাংলায় দারুন সারা ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের যুবসাথী প্রকল্প। প্রত্যেক জেলায় নাম লেখানো নিয়ে এক আলাদা মাত্রার ভিড় চোখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। তাই শাসক শিবিরের তরফ থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয় যে গত ১৫ বছরে বেকারত্বের হার কমেছে পশ্চিমবঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার শাসিত রাজ্যগুলির থেকে।
সম্প্রতি, বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে অন্তর্বর্তী বাজেট ঘোষণা করা হয় রাজ্যের তরফ থেকে। একাধিক বড় ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যার মধ্যে একটি যুবসাথী প্রকল্প। মাস গেলে ১৫০০ টাকা দেওয়া হবে বেকার যুবক-যুবতীদের। তবে তাঁদের মাধ্যমিক বা সেই সমান পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত স্কলারশিপ থাকলেও আবেদন করা যাবে।
তবে এই প্রকল্পকে পড়তে হয় বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে। গেরুয়া শিবির হোক কি বাম, দুজনেরই বক্তব্য যে নাম লেখানোর ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রাজ্যের অবস্থা কতটা খারাপ। কিন্তু জবাব দেওয়া থেকে পিছিয়ে আসেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের তরফ থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয় এবং জানানো হয় কিভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বেড়েছে বেকারত্ব এবং অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে সেটা কমেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে বামেদের পতনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসায় গত ১৫ বছরে বেকারত্বের হার ৩.৬ শতাংশ। কিন্তু তা চরমে পৌঁছেছে বিহার, রাজস্থান, অসম, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলিতে। বিজেপির শাসনকালে গত ১০ বছরে অসম, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশায় বেকারত্বের হার ৮.৫, ৮.৫, ৬.১ ও ৬.২ শতাংশ। ছত্তিশগড়ে ৭.৮ শতাংশ ছুঁয়েছে বেকারত্বের হার দুই দশকের উপর বিজেপি শাসনে। অন্যদিকে, বিহারে বেকারত্বের হার ২০ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান থেকে বোঝানো হলো যে বেকারত্ব ঠেকাতে ব্যর্থ বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলি। কিন্তু তাতে দশে ১০ তৃণমূল কংগ্রেস। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ সফল তারা। এবার দেখার আগে কি হয়।



By










