দেবজিৎ মুখার্জি, পূর্ব বর্ধমান: নির্বাচনী প্রচার ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা। তীব্র সংঘর্ষে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে অনুগামীদের নিয়ে রবিবার এলাকার এক মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। অভিযোগ, তৃণমূলের লোকেরা অনেকক্ষণ তালা ঝুলিয়ে রাখে দেবালয়ে যাতে না করতে পারেন আরাধনা। এমনকি সাধারণ মানুষকেও তার ফল ভোগ করতে হয়। এরপর প্রতিপক্ষরা লাঠি নিয়ে আসেন কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময়। বিরোধী গোষ্ঠীর তরফ থেকেও দাবি করা হয় যে বাদ্যযন্ত্র বাজাতেও বারণ করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হয় বচসা ও ধস্তাধস্তি। ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চড়াও হয়েছেন একজন মহিলা প্রার্থীর উপর। প্রতিবাদ জানাতে বিজেপি কর্মীরা অনেকক্ষণ রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান। সেখানে যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যান তৃণমূল কাউন্সিলর শ্যামাপ্রসাদ ব্যানার্জি। তবে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
শ্যামাপ্রসাদ ব্যানার্জির বক্তব্য, “আমি জানিনা আজকের কর্মসূচির কোনও অনুমতি ছিল কি না প্রশাসনের তরফ থেকে। অনুমোদন ছাড়াই যদি কোন দল এমন কাজ করে থাকে, তাহলে তা অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমি অনুরোধ করব আইন যেন সজাগ থাকে আগামীদিনে এমন ঘটনা ঘটলে। পুরোপুরি মিথ্যে বিপক্ষের দাবি। আমার ছেলেরা কোন গন্ডগোল করেনি আমি আসার পর। উল্টে আমাদের উপর ওরাই চড়াও হয়েছিল।”
অন্যদিকে মৌমিতা বিশ্বাসের বক্তব্য, “সর্বদা প্রধানমন্ত্রী বলেন যে মানুষের সেবা করুন, তাঁরা আশীর্বাদ দেবেন দুহাত তুলে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় আজ যা এক নারী প্রার্থীর সাথে হলো। কোনও সহযোগিতা পাইনি আমরা প্রশাসনের। সকলকে বলবো ভদ্রভাবে ও সুস্থ থাকুন, নাহলে আমি আইনি পথ নিতে বাধ্য হবো আইনজীবী হিসেবে।”



By










