• Home
  • কলকাতা
  • নাগরিকত্ব ও ভোটার মামলা ঘিরে চাঞ্চল্য! আবেদন না করা ২০ লক্ষ মানুষের সরকারি অনুদান কি বন্ধ হবে?

নাগরিকত্ব ও ভোটার মামলা ঘিরে চাঞ্চল্য! আবেদন না করা ২০ লক্ষ মানুষের সরকারি অনুদান কি বন্ধ হবে?

Image

রাজ্যে নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের (Verification) কাজ জোরকদমে শুরু হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার মাঝেই বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে—যাঁদের ভোটার তালিকাভুক্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে এবং যাঁরা এখনও আবেদন জানাননি, তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধু বা বিনামূল্যের রেশনের মতো সরকারি সুবিধা কি বন্ধ হয়ে যেতে পারে?

নবান্নের পরিসংখ্যান ও প্রশাসনিক অবস্থান

রাজ্য সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক সূত্রের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিষয়টির গভীরতা অত্যন্ত ব্যাপক:

পরিসংখ্যান ও বর্তমান প্রশাসনিক নীতি:
• আবেদনকারী ও অনবেদনকারী: রাজ্যে বর্তমানে বিচারাধীন মোট ২৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ মানুষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। বাকি ২০ লক্ষ মানুষ এখনও আবেদন করেননি।
• আবেদনকারীদের জন্য সুরক্ষা: যাঁরা ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে বা নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে আবেদন করেছেন, তাঁদের সমস্ত অনুদান ও সরকারি সুবিধা বর্তমানে চালু রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
• অনবেদনকারীদের ভাগ্য: ট্রাইব্যুনালে আবেদন না করা মানুষের সরকারি অনুদান বন্ধ করার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে প্রশাসন।

কী বলছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা?

এই বিষয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা বা না করার সাথে সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কোনো সরাসরি বা আইনি সম্পর্ক থাকতে পারে না।

তাঁর মতে, ভারতীয় সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা দেওয়া হয় অধিবাসী ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং সরকারি নীতির ভিত্তিতে। সরকার যদি এই অজুহাতে কোনো নাগরিকের অনুদান বা রেশন বন্ধের পদক্ষেপ নেয়, তবে তা আদালতের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব এবং আইনি লড়াইয়ে তা টিকবে না।

ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচন কমিশনের শ্লথ গতি

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বিচারাধীন ভোটারদের মামলার নিষ্পত্তির গতি অত্যন্ত ধীর। বিপুল সংখ্যক মামলার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র গুটিকয়েক মামলার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, যা নিয়ে উচ্চ আদালতেও একাধিক মামলা বিচারাধীন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন দিনে তথ্য যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া এবং ২০ লক্ষ বিচারাধীন মানুষের ভবিষ্যৎ রাজ্য রাজনীতির প্রধান অনুঘটক হয়ে উঠতে চলেছে। তবে অনুদান সংক্রান্ত যেকোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকাই শেষ কথা বলবে।

 

_______

Scroll to Top