• Home
  • কলকাতা
  • ১০০ কোটির সম্পত্তি ও বেনামে জমি! ইডির রাডারে ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী

১০০ কোটির সম্পত্তি ও বেনামে জমি! ইডির রাডারে ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী

Image

সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনা এবং বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। তবে এবার তদন্তের গতি বাড়তেই সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিধাননগরের এই তৃণমূল নেতার প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস পেয়েছে পুলিশ, যা ইতিধ্যেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-কে জানানো হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, গত ৫ বছরে দেবরাজের সম্পত্তি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে কোনো বড়সড় আর্থিক তছরুপ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

৩০টি বেনামী সম্পত্তি ও উত্তরবঙ্গ যোগ

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজের বিভিন্ন পরিচিতদের নামে রয়েছে এই সম্পত্তিগুলি। এমন প্রায় ৩০টি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

  • সম্পত্তির পরিমাণ: তদন্তকারীরা এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি এমন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছেন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা।
  • এলাকা: কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা যেমন— দমদম, নিউ টাউন, বাগুইআটির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের একাধিক প্রাইম লোকেশনেও দেবরাজের নামাঙ্কিত ও বেনামী সম্পত্তির হদিস মিলেছে।

আদালতে চার্জশিট ও গুরুতর অভিযোগ

গত সপ্তাহেই বারাসত আদালতে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিন্ডিকেট চালানো এবং তোলাবাজির চক্র সক্রিয় রাখার সপক্ষে পর্যাপ্ত ও শক্তিশালী তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কোটি কোটি টাকার বেনামী সম্পত্তি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি অর্জন, তথ্য গোপন করা এবং নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য পেশ করার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

আইনি লড়াই ও পুরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার

সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠার পরই আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল এই দম্পতি। শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে আদালত অদিতি মুন্সিকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও দেবরাজের আবেদন নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে আত্মগোপন করে থাকা দেবরাজকে পুরুলিয়া থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং ইডি-ও এই অর্থপাচারের মামলায় নজর রাখছে।

________

Scroll to Top