দেবজিৎ মুখার্জি: নানা বিতর্ক কাটিয়ে শনিবার প্রকাশিত হয় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) চূড়ান্ত তালিকা। সকাল থেকে ধাপে ধাপে বেরিয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইট লাগাতার ক্র্যাশ করায় সমস্যা হচ্ছে। তবে কমিশনের তরফ থেকে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী। বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে একাধিক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আবার অজস্র নাম বিচারাধীন। গোটা বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে।
শুধু তাই নয়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকাকে ঘিরে কোনরকম অশান্তি যাতে না হয়, তার জন্য চার জেলায় ৪ জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। সেই চার জেলা মালদা, কৃষ্ণনগর, মুর্শিদাবাদ ও কোচবিহার এবং এর দায়িত্বে রয়েছেন অজয় নন্দ, গৌরব শর্মা, রশিদ মুনির খান এবং সুনীল কুমার যাদব। সবমিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতি আজ এক অন্য রূপ নিয়েছে।
তবে এই সবকিছুর মাঝে একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল যে যেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা ঘিরে চারিদিকে এত সমালোচনা হয়েছিল, তাঁর নাম এসেছে কিনা চূড়ান্ত তালিকায়। জানা গিয়েছে, তালিকাতে তাঁর নাম রয়েছে। তবে এর সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তালিকাতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে ‘প্রবাসী ভারতীয়’ বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিশ দেওয়া ঘিরে ব্যাপক হইচই পড়েছিল গোটা বাংলায়। চারিদিকে বইছিল সমালোচনার বন্যা। বিষয়টির তীব্র নিন্দা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কয়েকবার তিনি কটাক্ষ করেছিলেন কমিশনকে। পাশাপাশি, সমালোচনা করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা ডায়মন্ড হারবার সাংসদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। যদিও তাঁর শান্তিনিকেতনের বাড়ি ‘প্রতীচী’তে গিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা এবং শুনানির কাজ শেষ করেছিলেন।
আজ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়াকে ঘিরে সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা অনুভব করা যাচ্ছিল গোটা রাজ্যে। অনেকেরই নাম বাদ পড়েছে বলে খবর। এবার দেখার বিষয় যে তালিকা প্রকাশকে ঘিরে আগামীদিনে নতুন কিছু হয় কিনা। রাজ্য রাজনীতি রাজনৈতিক আলোচনা কোন পর্যায়ে যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকল রাজ্যবাসী।



By










